মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ শুভেন্দুর

112

কলকাতা: মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারই তিনি এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন। এদিন শুভেন্দু দাবি করেছেন, নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে ২০১৮ সালে সিবিআইয়ের করা একটি মামলা এবং অসমের চারটি মামলার কথা উল্লেখ নেই। তাই দ্রুত আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যদিও এদিনই সিবিআই জানিয়ে দিয়েছে, ২০১৮ সালে সিবিআই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন। ওই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরের এক কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসারের স্ত্রী। তাই এই মামলাটি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নয়। তবে অসমের চারটি মামলা নিয়ে কমিশন তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।

এদিন কাঁথির জনসভার পর শুভেন্দু অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথ্য গোপন করেছেন। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। কমিশন ব্যবস্থা নিলে ভালো। তা না হলে আইনি পথে আমি এগোব। যদিও এদিনই পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের একটি জনসভা থেকে পালটা তোপ দাগেন তৃণমূলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপি সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে মাঠে নামিয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনকেও তারা ব্যবহার করছে। আমাদের দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের চেষ্টা করছে। কিন্তু, হাজার চেষ্টা করেও বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাংলার মানুষ গদ্দারদের যোগ্য জবাব দেবে।

- Advertisement -

প্রথম দফায় পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি আসনে নির্বাচন। এদিন সকালে মমতা যখন পুরুলিয়ায় দুটি জনসভা করছেন, তখন অভিষেক দাঁতনে জনসভা করে চলে যান মেদিনীপুর শহরে। দলীয় প্রার্থী জুন মালিয়ার সমর্থনে মেদিনীপুর শহরে অভিষেক রোড শো করেন। সেখান থেকেও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, গত ১০ বছরে রাজ্যে যা উন্নয়ন হয়েছে, তা কোনওদিন হয়নি। বহিরাগত কিছু গুন্ডা বাংলাকে অশান্ত করতে চক্রান্ত করছে। কিন্তু, বাংলার মানুষ এই চক্রান্ত ব্যর্থ করবেই।

এদিন শুভেন্দুও পূর্ব মেদিনীপুরে একাধিক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে তিনি কাঁথি ছাড়াও তমলুক, ময়নায় সভা করেন। প্রতিটি সভা থেকেই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, রাজ্যে বিজেপি ২০০টির বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। তখন পিসি ও ভাইপোকে কোম্পানি গুটিয়ে নিতে হবে। বাংলার মানুষ আসল পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন।