মন্ত্রিত্বের পর বিধায়ক পদ ছেড়ে দিতে চান শুভেন্দু

0

কলকাতা: ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হলে বিধায়ক পদ ছেড়ে দিতে চান রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ এবং বিতর্ক এড়াতেই মন্ত্রিত্ব সহ বিভিন্ন সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত তিনি বিধায়ক থাকবেন। গতকাল তাঁর শিবির সূত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর রবিবার শুভেন্দুর প্রথম জনসভা করার কথা রয়েছে। সদ্যপ্রয়াত প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী রঞ্জিত বয়ালের স্মরণে মহিষাদলে ওই সভা করা হবে। যদিও তৃণমূল সূত্রে খবর, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, গতকালই মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন দাপুটে তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিষয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে চিঠি দিয়েছেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, এদিনই তাঁর দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে তাঁর মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরই গতকাল সন্ধ্যায় কালীঘাটে তৃণমূলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সি সহ আরও অনেকে। শুভেন্দু রাজ্যের তিনটি দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। সেই দপ্তরগুলির দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বৈঠক করা হয়। বৈঠকে ঠিক হয়, আপাতত ওই তিনটি দপ্তর মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই থাকবে। সূত্রের খবর, শুভেন্দু দল ছাড়ার পর অধিকারী পরিবারের বাকি দুই সাংসদ শিশির এবং দিব্যেন্দুর কাছে তাঁদের অবস্থান জানতে চাওয়া হতে পারে। তৃণমূলের একটি মহল মনে করছে, শুভেন্দুর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

এর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকালই বিজেপিতে যোগ দেন কোচবিহার দক্ষিণের ‘অভিমানী’ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। গতকাল কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দিল্লি যান তিনি। কয়েকদিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে জল্পনা চলছিল। দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ৩ অক্টোবর দলের সমস্তরকম সাংগঠনিক পদ থেকে নিজের অব্যাহতি ঘোষণা করেছিলেন বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এরপর থেকেই তিনি দলের সঙ্গে আর কোনওরকম যোগাযোগ রাখেননি। তবে দলের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার কখনও বা সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ্যে তৃণমূলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করছিলেন। মিহিরবাবু তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। এসব নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে বেশ কিছুদিন ধরেই তোলপাড় চলছিল।