ভয়ংকর খেলার উসকানি তৃণমূলের, সরব শুভেন্দু

152

শিলিগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গকেও অশান্ত করে তোলা হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবার শিলিগুড়িতে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। হাসমিচকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘খেলা হবে, ভয়ংকর খেলা হবে, এসব তো উস্কানিমূলক কথাবার্তা। এর থেকেই স্পষ্ট, তৃণমূল কী করতে চাইছে। তবে আমরা বলছি, খেলা হবে, তৃণমূলকে ফেলা হবে। মোদিজি তো বলেইছিলেন ১৯শে হাফ, ২১শে সাফ।’ এই সূত্র ধরেই তাঁর অভিযোগ, যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। তবে এসত্ত্বেও বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসবে। খেলা হবে, জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল রাজ্যকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছে।’

লোকসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি বিধানসভা ভোটেও হবে বলে শুভেন্দুর দাবি। ১৯-এর ভোটে উত্তরবঙ্গে আটটি আসনের মধ্যে বিজেপি সাতটি দখল করেছিল। বিধানসভা নির্বাচনে ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে বিজেপি কয়টা দখল করবে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও শুভেন্দু বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ রাজ্যকে পথ দেখিয়েছিল। বিধানসভা ভোটেও এর ব্যতিক্রম ঘটবে না।’ তৃণমূল শাসনে উত্তরবঙ্গের নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাওয়ার জেরেই এখানকার মানুষ বিজেপির পক্ষে রায় দেবে বলে তাঁর দাবি। শুভেন্দু বলেন, ‘একটা সরকারের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই। ১০ বছর ধরে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঝগড়া করে গেল। মুখে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তার কোনও হিসাব দিতে পারছে না।’ বিজেপিকে আটকাতে সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূল সমঝোতা করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। শুভেন্দু বলেন, ‘দুই দলের মধ্যে ম্যাচ ফিক্সিং চলছে। তাই সিপিএম সম্পর্কে এখন নরম মনোভাব দেখানো হচ্ছে।’ কোচবিহারের তৃণমূল নেতা পরেশ অধিকারীর নাম নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ওয়েটিং লিস্টেও নাম না থেকেও কি করে ওই নেতার মেয়ে স্কুলে চাকরি হয়?

- Advertisement -

শিলিগুড়িতে আসার আগে শুভেন্দু এদিন আলিপুরদুয়ারের বাবুরহাটের জনসভায় শামিল হন। সেখানে আগাগোড়াই তিনি তৃণমূল শিবিরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ছিলেন। সন্ধ্যায় ফালাকাটায় মিল রোড থেকে ধূপগুড়ি মোড় পর্যন্ত বিজেপির রোড শোতে হাজার হাজার মানুষ শামিল হয়। ২ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ফালাকাটার মিল রোডের মাঠে সভা করেন। বিজেপি পালটা সভা করতে পারেনি। তাই এদিন পরিবর্তন যাত্রা কর্মসূচিতে তারা ফালাকাটাকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়। বাবুরহাটের সভা শেষ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ বিজেপির রথ ফালাকাটায় পৌঁছোয়। রথ মিল রোড চৌপথিতে পৌঁছোতেই রোড শো শুরু হয়। সেখান থেকে নতুন চৌপথি হয়ে সওয়া ৭টা নাগাদ রথ ধূপগুড়ি মোড়ে পৌঁছোয়। তবে বিজেপির রোড শো ও পথসভাকে কেন্দ্র করে প্রায় দুঘণ্টা মূল রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। তৃণমূল বিজেপির গোটা কর্মসূচির ওপর কড়া নজরদারি চালায়।