দক্ষিণ দিনাজপুরে ফিরেছেন ৩৮ হাজার শ্রমিক, তবু লালা সংগ্রহে গতি নেই

543
প্রতীকী ছবি।

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : ভিনরাজ্য থেকে জেলায় ফিরছেন দলে দলে শ্রমিক, অথচ লালা সংগ্রহে গতি নেই দক্ষিণ দিনাজপুরে। জেলায় করোনার পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে কার্যত অন্ধকারে সব মহল। এপর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্য থেকে জেলায় ফিরেছেন। এই সময় লালা সংগ্রহে গতি আনার প্রয়োজন  থাকলেও এখন যেন কিছুটা গা-ছাড়া দশা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের। জেলায় লালা সংগ্রহে যেমন গতি নেই, তেমনই রয়েছে রিপোর্ট না আসার সমস্যা। ফলে গত তিনদিন ধরে জেলায় করোনা পজিটিভ হওযার খবরও নেই। এই অন্ধকার কাটাতে এদিন থেকে লালা সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। দিনভর ১৫০ সোয়াব সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে জেলায়। তিনদিন পর এদিন মাত্র ৬৩টি লালার নমুনা পাঠানো হয়েছে মালদা মেডিকেলে। পাশাপাশি এদিন কোভিড হাসপাতাল থেকে পাথরঘাটার এক প্রৌঢ় দম্পতিকে ছুটি দেওযা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে।

করোনা পরীক্ষার জন্যে দক্ষিণ দিনাজপুরকে ভরসা করতে হয় মালদা মেডিকেলের আরটিপিসিআর মেশিনের ওপর। কিন্তু উত্তর দিনাজপুর ও মালদার লালা পরীক্ষা ব্যাপক চাপ থাকায় মেডিকেল কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ দিনাজপুরের রিপোর্টগুলি সময়মতো দিতে পারছে না। ফলে ব্যাকলগের সংখ্যা বাড়ছে। প্রথমদিকে এই জেলার রিপোর্ট নিয়মিত এলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেক রিপোর্ট জমে গিয়েছে। এই ব্যাকলগ থেকেই গত কয়েকদিনে জেলায় ৪৩ জন করোনা সংক্রামিত বলে খবর মিলেছে। এঁদের মধ্যে অবশ্য ৩৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চারজনের হোম কোয়ারান্টিনে চিকিৎসা চলছে। এখনও দুজন বালুরঘাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এঁদের মধ্যে কলকাতা থেকে ফেরা গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা এক পুলিশকর্মীও রয়েছেন।

- Advertisement -

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে জেলাগুলির লালার নমুনার ব্যাকলগ ক্লিয়ারের কাজ শুরু করেছে মালদা মেডিকেল কর্তপক্ষ। কিন্তু গত তিনদিন ধরে কাজ করেও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ব্যাকলগ থাকা প্রায় হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন করে লালা সংগ্রহ কার্য বন্ধ রয়েথে। বকেযা স্যাম্পলের রিপোর্ট না আসায় নতুন লালা সংগ্রহে গতি আসছে না জেলায়।

ভিনরাজ্য ও ভিনজেলা ফেরা প্রায় ২৮ হাজার মানুষ ও চার করোনা পজিটিভ রোগীকে হোম কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে। সরকারি কোয়ারান্টিনে রয়েছেন প্রায় ৬০০ জন। এদেরও লালা সংগ্রহ হচ্ছে না। করোনা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৩৮ জন। মালদা মেডিকেলে ব্যাকলগ অনেকটা ক্লিয়ার হয়ে আসায় আগামীকাল থেকে সেখানে সোযাবের নমুনা পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানান ডেপুটি সিএমওএইচ ২ কিশলয় দত্ত।