ভারতসেরা হয়ে স্বপ্নার লক্ষ্য আরও উঁচু

144

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : পারিবারিক জীবনে সমস্যা, প্রতিবেশীদের বিদ্রুপ সহ্য করতে করতে বছর দেড়েক আগে স্বপ্না বর্মন ভেবেছিলেন, হেপ্টাথলন থেকে অবসর নেবেন। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কোচ সুভাষ সরকার। স্বপ্নাকে বুঝিয়ে তিনিই আবার গত বছর অক্টোবর মাসে মাঠে ফিরিয়ে আনেন। প্রত্যাবর্তনের ছয় মাসের মধ্যে পাতিয়ালায় ফেডারেশন কাপে সোনা জয় স্বপ্নার। পয়েন্ট সংগ্রহের বিচারে পারফরমেন্স গ্রাফ অবশ্য অনেকটাই পড়েছে। তিন বছর আগে এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের সময় জলপাইগুড়ির অ্যাথলিটের সংগ্রহ ছিল ৬০২৬ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার ফেডারেশন কাপ থেকে তাঁর প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছিল ৫৬৩৬ পয়েন্ট। তাই ভারতসেরার মুকুট পড়েও স্বপ্না আর নতুন করে কোনও স্বপ্ন দেখাতে চান না ভক্তদের। কিছুটা গম্ভীর মুখে তাঁর মন্তব্য, আমাকে এখন অনুশীলন করতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে আরও।

২০১৯ সালের এপ্রিলে এশিয়ান ট্র‌্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে শেষবার কোনও প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন স্বপ্না। ফিরেছিলেন রুপো হাতে নিয়ে তারপরই অন্ধকার নেমে আসে স্বপ্নার জীবনে। পাতিয়ালায় প্রিয় ছাত্রীর সাফল্যের সাক্ষী থাকার পর তাঁর মেন্টর সুভাষ আর থামতে চাইছেন না। বলেছেন, ফিটনেস পুনরুদ্ধার করলেও পাওয়ার-স্কিলের দিক থেকে নিজের সেরা সময়ের থেকে দূরে স্বপ্না। প্রায় দুই বছর পর কোনও প্রতিযোগিতায় নামল। তাই পারফরমেন্স গ্রাফ তো পড়বেই।

- Advertisement -

জুলাই মাসে টোকিওয় রয়েছে অলিম্পিক। এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পর থেকে স্বপ্না অলিম্পিক লক্ষ্যের কথা বারবার বললেও বাস্তবে সেটা সম্ভব বলে সুভাষ মনে করেন না। তিনি বলেছেন, টোকিওয় যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ৬৪২০ পয়েন্ট। তাই অলিম্পিক নয়, আমার মতে ওর সেরা সম্ভাবনা রয়েছে ২০২২ সালে চিনে এশিয়াড ও ইংল্যান্ডে কমনওয়েলথ গেমসে। দুই প্রতিযোগিতা থেকেই পদক জেতার সম্ভাবনা আছে ওর। আমি বাজি রেখে বলতে পারি, জলপাইগুড়ির আর কারও সেই ক্ষমতা নেই। তাই সবার থেকেই ওর জন্য একটু ধৈর্য, সহানুভূতি প্রার্থনা করছি। স্বপ্নার প্রতি তাঁর দুর্বলতার কারণ প্রকাশ পেয়েছে পরবর্তী কথাতেই। সুভাষ বলেছেন, ওর মতো আমিও জলপাইগুড়ির সন্তান। ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা ও আশপাশের মানুষের বিদ্রূপ শুনে হঠাৎ করেই অবসরের কথা ভাবতে শুরু করেছিল স্বপ্না। অনেক বুঝিয়ে ওকে মাঠে ফিরিয়েছি। সবে মাত্র ২৪ পেরিয়েছে ওর। দেশের সম্পদ স্বপ্না। আমি বিশ্বাস করি, আরও সম্মান, সাফল্য আনার ক্ষমতা রয়েছে ওর। এদিনই আমার সঙ্গে কলকাতায় পৌঁছেছে স্বপ্না। জুনে বেঙ্গালুরুতে রয়েছে আন্তঃরাজ্য অ্যাথলেটিক্স। সল্টলেক সাইয়ে সেটাকে টার্গেট করে আমার কাছে অনুশীলন করবে ও।

ঘরের মেয়েকে নতুন লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করতে সংবর্ধনার কথা ঘোষণা করেছেন জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব কুমার দত্ত। বলেছেন, দেশের কাছে জলপাইগুড়ির মুখ উজ্জ্বল করেছে স্বপ্না। আগামীদিনে আরও বড় সাফল্য ওর অপেক্ষায় রয়েছে, এই ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। জলপাইগুড়িতে স্বপ্না ফিরলে আমরা সংবর্ধিত করব।