শালকুমারহাট : কুড়ি বছর আগেও তাঁর হাতে তৈরি মিষ্টি, লাড্ডু, সন্দেশের দারুণ কদর ছিল এলাকায়। দোকানও চলত রমরমা। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের মধ্য মেজবিলের সেই মিষ্টির কারিগর পরিমল সরকারের এখন দুবেলা খাবার জোটে না। বৃদ্ধা স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় এক বেলা খেয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছেন তিনি। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার কার্ড, আধার কার্ডে বয়সজনিত ভুলের জন্য তাঁরা সরকারি সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিকে, একমাত্র ছেলেও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সেরকম খোঁজ রাখে না। অন্যদিকে, রাস্তার পাশেই বাড়ি হওয়ায় ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি চার লেনের মহাসড়কের কারণে ওই দম্পতির একচালা ঘরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসন ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।

পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য মেজবিল গ্রামের গুদামটারি মোড়ে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পাশে পিডব্লিউডি-র জমিতে একচালা ঘরে বসবাস পরিমল সরকারের। এক সময় পাশের গ্রাম শিশাগোড় গোহাটে তাঁর মিষ্টির দোকান ছিল। নিজেই ছিলেন কারিগর। স্ত্রী অনিতারানি সরকারও স্বামীর সঙ্গে দোকান পরিচালনা করতেন। হাটের জমিতেই ছিল ওই দোকান। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের ভারে ৬-৭ বছর আগেই সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় পরিমল সরকারের। এরপর গুদামটারি মোড়ে বাড়ির সামনেই ছোটো দোকান খোলেন তিনি। ২-৩ বছর পর পুঁজির অভাবে সেই দোকানও এখন বন্ধ। এদিকে, পরিমল সরকারের দাবি, বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৮০। স্ত্রীর বয়স ৬০। অথচ ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডে দুজনেরই বয়স অনেক কম। কয়েক বছর থেকে মাসিক ৪০০ টাকা করে বার্ধক্যভাতা পাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেই টাকাও নিয়মিত মেলে না বলে অভিযোগ। অনেক আগেই পরিমল সরকারের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছেলে বাবা-মাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। ওই বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে ফালাকাটায় থাকে। কিন্তু বাবা-মাকে সেভাবে কোনো সাহায্য করে না। বর্তমানে ঠিকঠাক খাবার জুটছে না ওই দম্পতির। পরিমল সরকার বলেন, দুবেলা খেতে পারছি না। তাঁর দাবি, ছেলে ও আত্মীয়স্বজনরা সেভাবে খোঁজখবর কেউ রাখে না। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, বিষয়টি কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখব।