সবজি বিক্রি, চায়ের দোকানে কাজ করছেন সুইমিং কোচরা

বেঙ্গালুরু : মাস কয়েক আগেও তাদের দৈনন্দিন জীবন ছকে বাঁধা ছিল। কিন্তু করোনার অতিমারির দাপটে লকডাউন সব তালগোল পাকিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে উঠেছে যে সবজি বেচে, চায়ের দোকানে কাজ করে অন্ন সংস্থান করতে হচ্ছে কর্ণাটকের একাধিক পেশাদার সুইমিং কোচকে। করোনার দাপট কাটিয়ে অন্যান্য খেলা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু সাঁতারুদের সুইমিং পুলে নামার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দফতর ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যার ফলে এবারে সাঁতারুদের গ্রীষ্মকালীন শিবির হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্ন সংস্থানের জন্য অন্য কাজের দিকে ঝুঁকছেন একাধিক কোচ।

এ প্রসঙ্গে মঞ্জুনাথ ভি নামক এক কোচ বলেছেন, আমি ও আমার স্ত্রী দুজনেই কোচ। আমি যদিও বা কিছুটা মাইনে পাচ্ছি, কিন্তু আমার স্ত্রীর রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ কোচেরই একই অবস্থা। অনেকেই পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে সবজি বিক্রি করছেন, চায়ের দোকানে কাজ করছেন। অন্য অ্যাথলিটদের যখন অনুশীলন করতে দেখি তখন কষ্ট হয়। সাঁতারুদেরও অনুশীলন শুরুর অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু আমাদের কথা কেউ কানে তোলে না। একই প্রতিধ্বনি বিজয় এন-এর গলায় শোনা গিয়েছে। তাঁর কথায়, গত আট বছর ধরে আমি সাঁতারের সঙ্গে যুক্ত। কখনও ভাবিনি অন্য কোনও কাজ করতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি অন্য কাজের সন্ধানে রয়েছি। কেননা পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।

- Advertisement -

কর্ণাটকে একাধিক সুইমিং সেন্টার রয়েছে এম সতীশ কুমারের। লকডাউনের কঠিন পরিস্থিতিতে তিনিও তাঁর সেন্টারের স্টাফদের অন্য কাজ খুঁজে নিতে বলেছেন। যার ফলে তাঁর স্টাফের সংখ্যা ১০-এ নেমে দাঁড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে সতীশ বলেছেন, আমি লকডাউনের প্রথম দুই মাস প্রত্যেককে পুরো বেতন দিয়েছি। কিন্তু তারপর কিছুটা বাধ্য হয়ে ওদের বলেছি অন্য কাজ খুঁজে নিতে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওরা চাইলে ফিরে আসতে পারে। দ্রোণাচার্য কোচ নীহার আমিনও একই পন্থা অবলম্বন করেছেন। তাঁর কথায়, কোচিং সেন্টার চালাতে প্রচুর খরচ হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা সম্ভব নয়। তাই কোচদের বাড়ি চলে যেতে বলেছি। সরকারের কাছেও আবেদন করেছি যাতে সাঁতারুদের অনুশীলন শুরুর অনুমতি দেয়। কিন্তু কোনও সদুত্তর পাইনি।