কোটি টাকায় জমি কিনেও সেখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প হচ্ছে না

487

আলিপুরদুয়ার : ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকায় জমি কিনে সেখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প করা হচ্ছে। আবর্জনা জমা না করে অত্যাধুনিক উপায়ে ওই প্রকল্প গড়ে  তোলা হলেও তা নির্ধারিত জমিতে করতে অসুবিধা কোথায়, এই প্রশ্নই এখন আলিপুরদুয়ারে সবার মুখে। এমনিতেই জলবন্দি শহরে আবর্জনা ভেসে বেড়ানোয় লোকের ক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠেছে। তার উপর প্রশাসনের কর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বৈঠক করে এই প্রকল্পের জন্য আবার একসঙ্গে একাধিক জায়গা দেখার কথা বলায় বিতর্ক বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আলিপুরদুয়ারে ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আলিপুরদুয়ারে ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প নিয়ে টালবাহানা করছে স্থানীয় পুরসভা ও জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে জনসাধারণের কোটি কোটি টাকা খরচ করে একাধিকবার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য জায়গা কেনা হয়েছে। অথচ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। মাঝেরডাবরি চা বাগানে জেলা প্রশাসন প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জন্য জায়গা কেনার পরেও কেন জায়গার সমস্যা মিটছে না তা জেলা প্রশাসন খোলসা করে বলছে না। গোটা বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করবার দাবি জানাচ্ছি।’

- Advertisement -

বিজেপির মাদারিহাটের বিধায়ক তথা বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন আগে আলিপুরদুয়ারের ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যা নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তার নির্দেশ সত্বেও এতদিনেও পুরসভা এবং জেলা প্রশাসন এই সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। গোটা বিষয়টি আমি এবার বিধানসভায় তুলে ধরবো।’

গত বুধবার মহকুমা শাসকের দপ্তরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যা নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়। ওই বৈঠকে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, তৃনমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জহর মজুমদার, পুরসভার প্রাক্তন দুই চেয়ারম্যান আশিস দত্ত, দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। এমনকি প্রশাসনের ওই বৈঠকে তৃনমূল কংগ্রেসের চা শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। কিছুদিন আগেই বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী আলিপুরদুয়ারের ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যা সমাধানে নতুন চিন্তা ভাবনার কথা বলেন। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ধারণা তুলে দিয়ে তিনি শুধু সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে তলার কথা বলেন। এই পদ্ধতিতে যে জায়গায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট গড়ে তোলা হবে সেখানে কোনোরকম আবর্জনা জমা করা হবে না বলে সৌরভ জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে  তাহলে, এই পদ্ধতিতে কেন মাঝেরডাবরি চা বাগানে ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে কেনা জমিতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প করা যাবে না? গত বুধবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে বৈঠকের পর বিধায়ক বলেন, ‘এবার আর একটা জায়গা নিয়ে আমরা প্রকল্প রূপায়ণে এগোচ্ছি না। একসঙ্গে অনেকগুলো জায়গা দেখা হচ্ছে।’ বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠন তরাই ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের জেলা সভাপতি সমীর দত্ত বলেন,” আমরা এবার মাঝেরডাবরি চা বাগানে নতুন ধারণায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়তে কোনো বাধা দেব না। তবে যে জায়গা ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য কেনা হয়েছিল সেখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প হচ্ছে না। চা বাগানের অন্য জায়গা দেখা হচ্ছে। চা বাগান কর্তৃপক্ষ আরো ভালো জায়গা দেবে বলেছে।’

পুরসভার প্রশাসক তথা মহকুমা শাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ বলেন, ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে। আশা করছি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করা যাবে।’

তথ্য-সুমন কাঞ্জিলাল

ছবি-আয়ুস্মান চক্রবর্তী