অর্থাভাবে দিন কাটছে উত্তরের নামকরা বাঁশশিল্পী শ্যামল বর্মনের

333

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: অন্যদের আনন্দ দেবার জন্য বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই খেটে চলেন। কিন্তু নিজের জীবনে আনন্দের সময় কবে আসবে? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে পাননা উত্তরের এক নামকরা বাঁশশিল্পী শ্যামল বর্মন।

শ্যামলবাবু জানান, বাঁশের কাজের সঙ্গে প্রায় পঁচিশ বছর ধরে যুক্ত রয়েছেন। কাজের জন্য ইতিমধ্যেই বেসরকারি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফেও বহু পুরস্কার মিলেছে। মিলেছে অগণিত শংসাপত্রও। কিন্তু ওইসব দিয়ে কি আর পেটের ভাত জোগাড় হয়? বিভিন্ন মহলের তরফে আশ্বাস মিললেও আজ অবধি পেটের ভাত জোগারের নিশ্চয়তা মিলল না। লোনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হলেও লাভ হচ্ছে না। তাই বর্তমানে তাঁর দিশেহারা অবস্থা। লকডাউনে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। কারণ প্রতিবছর দুর্গোৎসবের সময়েই তাঁর সারা বছরের আয়ের একটা বড় অংশ জোগাড় হয়। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে বায়না পাবার পরেও চুক্তি বাতিল হয়ে গিয়েছে। তবুও হার মানতে নারাজ। করোনা পরিস্থিতির কারণে ফেরি করে সংসার সামালানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর বাঁশের কাজ কিন্তু বন্ধ রাখেননি। এবার বাঁশ দিয়ে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা তৈরি করে চমক দিতে চাইছেন শ্যামলবাবু।

- Advertisement -

গত কয়েকবছরে অবশ্য তাঁর বাঁশের তৈরি স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে চলন্ত রেলগাড়ি, সাইকেল, কোচবিহার রাজবাড়ি, টোটো নজর কেড়েছে। দুর্গা ও কালীপুজোয় বিভিন্ন পুজো কমিটির ডাকে এইসব নিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে ছুটে গিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই গোটা স্টেশন সহ বাঁশের ট্রেন, হেলিকপ্টার, মা কালী নিয়ে এবারের কালীপুজোয় হাজির হয়েছেন কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চ্যাংরাবান্ধা পশ্চিমপাড়ার লোটাস ক্লাবের আয়োজনে। যা দারুণ নজর কাড়তে শুরু করেছে এই সীমান্তবাসী সহ বিভিন্ন দর্শনার্থীদের।

মাথাভাঙ্গা ১ নম্বর ব্লকের কেদারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশরীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শ্যামল বর্মন। দুই পুত্র ভবিষ্যৎ বর্মন (৯) এবং বর্তমান বর্মন (৫), স্ত্রী গীতা বর্মন এবং মা শান্তিবালা বর্মনকে নিয়ে শ্যামলবাবুর সংসার। তিনি জানান, বাঁশ দিয়ে আরও নানা কারুকার্যের পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে। কিন্তু চিন্তা একটাই কতদিন এভাবে টেনেটুনে সংসার সামলিয়ে তাঁর এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন? তাঁর এই কাজে মাঝেমধ্যে সহযোগিতা করে বড় ছেলে ভবিষ্যতও। সরকারি তরফে কোনও সহযোগিতা চান তিনি। যার মাধ্যমে তিনি তাঁর এই শিল্পকর্মকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন ও নিশ্চিতভাবে দু’বেলা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবেন।