শিলিগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজারে তৃণমূল নেতার সিন্ডিকেট রাজ

388

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি :  শিলিগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজারে নতুন করে সিন্ডিকেট রাজের রমরমা কারবার শুরু হয়েছে। অভিযোগ, জমি কেলেঙ্কারি থেকে নিয়ন্ত্রিত বাজারে তোলাবাজিতে অভিযুক্ত শ্রমিক নেতাকে সামনে রেখেই এই সিন্ডিকেট চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন খুব কম হলেও ৭০-৭৫ হাজার টাকা এই সিন্ডিকেট আদায় করছে। মাসের হিসাব ধরলে আয় ২৫ লক্ষ টাকা। এই টাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শিলিগুড়ির বিভিন্ন নেতাকে মাসোহারা হিসাবে প্যাকেট পাঠিয়ে দেন সিন্ডিকেটের ওই নেতা। প্রশ্ন উঠেছে, দলে স্বচ্ছতা নিয়ে আসার বার্তা দিয়ে কেন শিলিগুড়িতে জমি মাফিয়া এবং তোলাবাজিতে জড়িত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দিচ্ছে তৃণমূল? দলের একাংশের অভিযোগ, দল গোল্লায় যাক, তোলাবাজিটাই এখানে প্রধান। কোন সিন্ডিকেট কত টাকা দিতে পারবে সেটার উপরে ভিত্তি করেই দলে নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, আমরা কখনও এসব সিন্ডিকেটকে সমর্থন করি না। যদি কেউ অন্যায়ভাবে কোথাও টাকাপয়সা তুলে থাকে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বাজারের সচিব অনিলকুমার শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

শিলিগুড়িতে জমি কারবারে শাসকদলের যেসব নেতার নাম জড়িয়েছে তাঁদের মধ্যে সবার আগে রয়েছে দলের প্রাক্তন যুব সভাপতির ঘনিষ্ঠ নিয়ন্ত্রিত বাজার এলাকার এক নেতা। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই জমি-হাঙর বলে কুখ্যাত। ভয় দেখিয়ে জমি দখল করা, একজনের জমি অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া এবং সরকারি জমি দখল করে সেটি লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে সিদ্ধহস্ত তিনি। কিছুদিন আগে পোকাইজোতে তৃণমূলেরই এক নেতার ঘিরে রাখা জমি দখল করে নিয়েছিলেন এই জমি মাফিয়া এবং তাঁর দলবল। সেই জমি উদ্ধারের জন্য জেলা নেতাদের কাছে দরবার করায় উলটে জমি মাফিয়াদের সঙ্গে বসে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য জমির মালিককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। জমি কারবারের পাশাপাশি তিনি শিলিগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজারে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগে প্রধাননগর থানার পুলিশ কার্যত ফিল্মি কায়দায় নিয়ন্ত্রিত বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। বেশ কিছুদিন জেলে থাকার পর বেরিয়ে আবার স্বমহিমায় এলাকায় ফিরেছেন তিনি। দলের দার্জিলিং জেলার মূল সংগঠনের পাশাপাশি যুব এবং আইএনটিটিইউসি-র শীর্ষস্তরীয় নেতাদের অনেকের সঙ্গে এই নেতার সুসম্পর্ক কারও অজানা নয়। চম্পাসারির এক তৃণমূল নেতা দীর্ঘদিন ধরেই এই জমি মাফিয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুলে দলের শিলিগুড়ির নেতৃত্বের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সেই নেতার সঙ্গে এই জমি মাফিয়ার হাত মেলানো হয়ে গিয়েছে এবং ওই নেতাকে আইএনটিটিইউসির জেলা কোর কমিটিতে নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। এই জমি মাফিয়ার ফেসবুক প্রোফাইলেও অনেক তৃণমূল নেতার নাম জ্বলজ্বল করছে। এহেন এক জমি মাফিয়াকে সামনে রেখেই নিয়ন্ত্রিত বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে।

- Advertisement -

দলীয় সূত্রের খবর, নিয়ন্ত্রিত বাজারে সবজি এবং ফল মান্ডিতে এই সিন্ডিকেটের রমরমা কারবার। প্রতিদিন এই মান্ডিতে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ১০০ গাড়ি পণ্য নিয়ে যাতায়াত করে। সেই গাড়িগুলির প্রত্যেকটি থেকে ৭০০-৮০০ টাকা করে দাদাগিরি ট্যাক্স আদায় করা হয়। শাসকদলের ব্যানারে থাকা এই সিন্ডিকেটের দাপট এতটাই যে, কোনও গাড়িচালকই টুঁ শব্দ করার সাহস পান না। দলেই প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই জমি মাফিয়া এবং তোলাবাজ নেতাকে এত আস্কারা দিচ্ছেন জেলার নেতারা? এর জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে খারাপ প্রভাব পড়ছে। অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।