মহম্মদ হাসিম, খড়িবাড়ি, ১৩ এপ্রিলঃ মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও খড়িবাড়ি ব্লকের অন্তর্গত ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি এলাকায় ফের ভিনরাজ্যের পণ্যবাহী ট্রাক, লরি থেকে রমরমিয়ে তোলা আদায় শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এজন্য রীতিমতো সিন্ডিকেট গড়া হয়েছে। পানিট্যাঙ্কি থেকে নেপাল যেতে ট্রাকপিছু অন্তত এক হাজার টাকা করে তোলা আদায় করা হচ্ছে।
লোকসভা ভোট নিয়ে প্রশাসনের ব্যস্ততার সীমা নেই। এই সুযোগেই তোলা আদায়কারীদের আরও বাড়বাড়ন্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও ভাগ রয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি, সিন্ডিকেটে খোদ পুলিশও যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ। রানিগঞ্জ-পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআই সদস্য আমেশ্বরী সিংহের বক্তব্য, এই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে আমরা বহুবার পুলিশকে বলেছি। কিন্তু তারা নিজেরাই এই চক্রে যুক্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাই নিতে চায় না। পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ মানতে চায়নি। খড়িবাড়ি থানার ওসি নীলম সঞ্জীব কুজুর বলেন, পানিট্যাঙ্কিতে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে টাকা তোলা হচ্ছে বলে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
খড়িবাড়িতে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি এলাকায় ভিনরাজ্যের পণ্যবাহী ট্রাক, লরি থেকে তোলা আদায় সংক্রান্ত খবর এর আগে ধারাবাহিকভাবে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ প্রকাশিত হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, খবরের জেরে ওই তোলা আদায় বন্ধ হলেও ভোটের ব্যস্ততার সুযোগে তা ফের শুরু হয়েছে। পানিট্যাঙ্কি হয়ে প্রতিদিন কয়েকশো ট্রাক ভারত থেকে নেপাল চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দা শুভলাল সিংহ, কনক বর্মন, গোবিন্দ বর্মন, রাজেশ দাসদের অভিযোগ, পানিট্যাঙ্কি বাজারগামী রাস্তার অন্তত ১০টি জাযগায় পণ্যবাহী এই ট্রাকগুলি দাঁড় করিয়ে টাকা আদায় চলে।
ভিনরাজ্যের ট্রাকচালক রাজেশ যাদব, ধর্মেন্দ্র কুমার, রামু পাওয়ারদের অভিযোগ, পানিট্যাঙ্কি থেকে নেপাল যেতে তাঁদের ট্রাকপিছু এক হাজার করে টাকা দিতে হচ্ছে। রাজেশের কথায়, অচেনা জায়গা হওয়ায় আমরা কাউকে কিছু বলতেও পারি না। বাধ্য হয়ে নিজেদের পকেট থেকেই এই টাকা মেটাতে হয়। ট্রাককর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ডান-বাম সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যেই ভাগ হয়। আরও অভিযোগ, এ নিযে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে উলটে তাঁদেরই হেনস্তার শিকার হতে হয়। এদিকে, প্রকাশ্যে এলাকায় এভাবে পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে তোলা আদায়ের জেরে এলাকায় ব্যাপক যানজট হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। সমস্যা মেটাতে চটজলদি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।