করোনা ও অনলাইন শপিংয়ের দাপটে নাজেহাল দর্জিরা

269

মেখলিগঞ্জ: করোনা ভাইরাস ও অনলাইন শপিংয়ের দাপটে নাজেহাল মেখলিগঞ্জের দর্জিরা। কেউ জানালেন, আয়ের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। আবার কেউ জানালেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন খারাপ পরিস্থিতি আগে দেখেননি। ফলে পুজোর আগে রীতিমতো চিন্তার ভাজ পড়েছে তাঁদের কপালে। পরিস্থিতির কারণ হিসাবে অনেকে দায়ী করেছেন করোনা পরিস্থিতিকে। পাশাপাশি অনেকেই আবার দায়ী করেছেন অনলাইন শপিংকে।

মেখলিগঞ্জ পুরসভার কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে সঙ্গে পুরসভা সংলগ্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষরাও মেখলিগঞ্জের দর্জিদের ওপর নির্ভরশীল। অন্য বছরগুলোয় পুজোর আগের এই মরশুমে দিন-রাত কাজ চলত তাঁদের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়-উপার্জনও খুব ভালো হত। এবছর পরিস্থিতি অন্য। করোনা পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। ফলে পুজোর আগের এই মরশুমে অন্য বছরগুলির মতো কাজ নেই মহকুমা শহর মেখলিগঞ্জের দর্জিদের হাতে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বেশিরভাগ মানুষ রেডিমেড জামা-কাপড় কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এক্ষেত্রে বাড়িতে বসেই অনলাইন শপিং করছেন অনেক মানুষ। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে দর্জিদের। মেখলিগঞ্জে দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত এই পেশার সঙ্গে যুক্ত আলেফ হোসেন বলেন, অন্য বছরগুলোতে পুজোর মাস দুই-এক আগে থেকে দিনে রোজগারের পরিমাণ হাজার টাকা পর্যন্ত যেত। এখন দিনে ১০০টাকা রোজগার করাও বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই, যার প্রভাব পড়েছে তাঁদের পেশার ওপর।

তিনি আরও জানান, তাঁর ৫০ বছরের কর্মজীবনে ব্যবসায় এমন খারাপ পরিস্থিতি কখনও আসেনি। মেখলিগঞ্জের আরেক দর্জি আব্দুল কাদের প্রামাণিক বলেন, অন্য বছরগুলোয় দুর্গাপুজোর মাস দেড়-এক আগে থেকে দিনে ২০টা অর্ডার পেতাম। এবছর দিনে ২টো অর্ডারও আসছে না। ফলে পুজোর বাজারে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি। এর কারণ হিসাবে করোনার পাশাপাশি অনলাইন শপিংকেও দায়ী করেছেন তিনি।