প্রতীকী ছবি

তুফানগঞ্জ : শপিং মল, রেডিমেড পোশাকের যুগে তুফানগঞ্জের দর্জিদের একাংশ আর্থিক সংকটে। পুজোর সময় আগে দর্জিরা নাওয়া-খাওয়ার সময় পেতেন না। কাজ না থাকায় এখন তাঁদের সময় কাটে না। তুফানগঞ্জ মহকুমা সিবন শিল্প সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগেও তুফানগঞ্জ শহর ও গ্রামাঞ্চলে পুজোর আগে থেকেই পোশাক তৈরির অর্ডার আসতে শুরু করত। প্রতিটি দোকানে কয়েক জন কারিগর কাজ করতেন। তুফানগঞ্জের প্রায় ২৫০টি দোকানে এক হাজারের মতো কারিগর কাজ করে সংসার চালাতেন। এবছর তুফানগঞ্জ মহকুমার প্রচুর দর্জির দোকানের  সেলাই মেশিন বন্ধ। অন্দরান ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বটতলা এলাকার উপানন্দ বর্মন ১৬ বছর ধরে দর্জির দোকান করে সংসার চালান। তিনি বলেন, এবছর পুজোর জন্য ৩০-৩৫টি জামাকাপড় তৈরির অর্ডার পেয়েছি। আগে একশোর বেশি অর্ডার পেতাম। আগে কারিগর নিতে হত। এ বছর কারিগরের প্রয়োজন হয়নি।

তুফানগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার দর্জি প্রণয়কুমার সাহা বলেন, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা শপিং মল, অনলাইনে কেনার দিকে ঝুঁকে পড়ায় আমাদের মতো দর্জিরা কাজ হারাচ্ছে। তিন বছর ধরে পুজোর অর্ডার খুবই কম হচ্ছিল। এ বছর অনেক কম কাজের অর্ডার পেয়েছি। তাই কারিগরের প্রয়োজন নেই। আগে স্কুলের ড্রেসের অর্ডার আসত। এখন সরকারের তরফে ড্রেস দেওয়ায় অর্ডার কমেছে। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারকেও সহযোগিতা করতে হবে। শালবাড়ির বাসিন্দা মেনকা দাস, তুফানগঞ্জের যতীন বর্মনরা জানান, ছোটোবেলায় পেশা হিসাবে তাঁরা দর্জির কাজকেই বেছে নিয়েছিলেন। পুজোর সময় আগে দিনরাত কাজ করতে হত। এবছর কাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে তাঁদের আর্জি, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হোক। তুফানগঞ্জ মহকুমা সিবন শিল্প সমিতির সম্পাদক ছোটন পাল বলেন, সিবন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তুফানগঞ্জ মহকুমার প্রতিটি স্কুলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের মাধ্যমে পোশাক দেওয়া হয়। স্বনির্ভর গোষ্ঠী পোশাকগুলি কলকাতা থেকে রেডিমেড হিসাবে কিনে আনে। ফলে মহকুমার দর্জিদের কাজ কমে যাচ্ছে। য়দি দর্জিদের দিয়ে স্কুল ড্রেস বানানোর চিন্তাভাবনা করা হয় তাহলে দর্জিদের মুখে হাসি ফুটবে।