শহরে সকলের মন কাড়ছে ভিন ঘরানার তন্দুরি চা

184

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : বছরচারেক আগের এক শীতের সন্ধ্যা। দিদার বাড়ি আহমেদনগরে বেড়াতে গিয়ে ঠান্ডা লেগে সর্দিকাশিতে ভুগছিলেন অমল রাজদেও। অমলের কষ্ট দেখে ফোটানো দুধ-হলুদ মাটির ভাঁড়ে ঢেলে বাড়ির একপাশে জ্বালানো বনফায়ারে আরেকবার ফুটিয়ে অমলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন দিদা। খেয়ে অনেকটাই আরাম পান অমল। সেই সঙ্গেই মাথায় এসেছিল তন্দুরি চা-এর চিন্তাভাবনা। এখন তাঁর তৈরি তন্দুরি চা-এর দোকানের শাখা সারা দেশে রয়েছে। শিলিগুলির বাসিন্দা সুদীপ্ত দত্ত, সুদীপ্ত সাহাদের সঙ্গে দেখা হয়নি অমলের। তবে অমলের চিন্তাধারা, চা তৈরির পদ্ধতি তাঁরা দেখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতেই অনুপ্রাণিত হয়ে চায়ের স্বাদে নতুন ট্রেন্ড এনেছেন তাঁরা। কেউ শুধুমাত্র তন্দুরি চায়ের দোকান করে, কেউ দোকানে অন্য চায়ের পাশাপাশি তন্দুরি চা যুক্ত করে চা প্রেমীদের আকর্ষণ করছেন।

চা প্রেমীদের কাছে সকাল ও বিকেলটা চা ছাড়া শুরু করাটা অনেকটাই কষ্টকর। লাল চা, দুধ চা-এর মধ্যেই যদি একটু অন্য ধরনের ফ্লেভারের চা পাওয়া যায় তাহলে আর কথাই নেই। ঠিক এই জায়গাতেই শহরের চা প্রেমীদের মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিতে চাইছে তন্দুরি চা। প্রধানত মশলা দুধ চা-এর ওপর নির্ভর করেই এই তন্দুরি চা তৈরি করা হচ্ছে। মাংসকে তন্দুর করার জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার ভাটি এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মাংসের পরিবর্তে থাকছে মাটির ভাঁড়। প্রধানত কয়লার ভাটির মধ্যে পাথরকয়লা, কাঠকয়লার সঙ্গে মাটির ভাঁড় পোড়ানো হচ্ছে। এরপর সেই পোড়া মাটির ভাঁড়ের মধ্যে চা ঢালা হচ্ছে। তন্দুরি চা বিক্রেতাদের কথায়, সাধারণ চায়ের তিন কাপ ওই পোড়া মাটির ভাঁড়ে এক কাপের সমান। ভাঁড়ের আয়তন হিসেবে তন্দুরি চা শুরু হচ্ছে ২০ টাকা থেকে। প্রধানত ২০  টাকা, ৩০ টাকা ও ৫০ টাকার মধ্যে থাকছে। পোড়া মাটির ভাঁড়ের আলাদা স্বাদ যেমন চা-তে লেগে থাকছে, ঠিক সেরকম চায়ের ঘনত্বও অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।  সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন চায়ের দোকানে জায়গা করে নিচ্ছে কয়লার ভাটি সহ তন্দুরি চা তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

- Advertisement -

পেশায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুদীপ্ত দত্ত বলছিলেন, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমেই তন্দুরি চা তৈরির কনসেপ্টটা পাই। বরাবরই চা খেতে ও খাওয়াতে খুব ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, এখন অ্যাকাউন্টেন্সির কাজ করলেও সেটা দিয়ে আর চলে না। তাই অ্যাকাউন্টেন্সির পাশে এই কনসেপ্টটাতেও পা দেওয়া। সন্ধ্যা থেকেই আমরা তন্দুরি চা বিক্রি শুরু করছি। বিভিন্ন বয়সি বহু মানুষ আসছেন। শহরে সন্ধ্যার পরেই তন্দুরি চা বিক্রির কারণ বলতে গিয়ে ব্যবসায়ী অজয় বসাক বলেন, প্রধানত এই চা অনেকটাই ভারী। দ্বিতীয়ত, সকালে ভাটি জ্বালালে সেটা রাত পর্যন্ত রাখা যাবে না। তাই আমরা সন্ধ্যার পর থেকে তন্দুরি চা বিক্রি শুরু করছি। শহরে প্রথম এই কনসেপ্ট নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের অন্যতম আইআইটি-র ছাত্র  সুদীপ্ত সাহা বলেন, আমরা সবসময়ে চাই নতুন কিছু। তাই ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুনের এই কনসেপ্টকে আয়ত্তে এনেছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সারা শহরজুড়ে বহু জায়গায় এই কনসেপ্টে চা তৈরি করে বিক্রি হচ্ছে। শহরবাসীও খুব পছন্দ করছেন। সবাই তন্দুরি চা বানানোর প্রক্রিয়াটা ভালোমতো রপ্ত করলে এই চায়ের চাহিদা আরও বাড়বে। আর এই সবকিছুর মধ্যেই খুশি অশোক পালদের মতো চা প্রেমীরা। তন্দুরি চা খেতে খেতেই রুমা পাল বলে উঠলেন, চা বানানোর উপর চায়ের আরও কত ধরনের যে স্বাদ লুকিয়ে আছে, সেটা আমরা এখনও জানি না।