পুজোর পর বিয়েতেও পুরোহিত, প্রথা ভাঙার পথে তনুশ্রী

98

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : সিনেমার গল্প ও বাস্তবের মধ্যে অনেক সময় বিস্তর ফাঁক থাকে। ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি সিনেমার গল্পের সঙ্গে কিন্তু নিজের জীবন বেঁধেছেন শিলিগুড়ির তনুশ্রী চক্রবর্তী। ওই সিনেমার নায়িকা শবরীর চরিত্রে ঋতাভরী ছিলেন পুরুষের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠার কঠিন লড়াইয়ে। সমাজ, শ্বশুরবাড়ির বাধা এড়িয়ে পুরোহিতগিরি করে দৃপ্ত গলায় প্রশ্ন করেছিলেন, এই যুগে মেয়েরা যদি প্রতিমা তৈরি করতে পারে, তাহলে সেই প্রতিমাকে পুজো করতে বাধা থাকবে কেন? তনুশ্রীও যেন সেই বার্তাই দিতে চান। সরস্বতীপুজো থেকে সেই বার্তা দেওয়া শুরু করেছেন পেশায় চিকিৎসক তনুশ্রী। শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের সরস্বতীপুজো হয়েছে তাঁরই পৌরোহিত্যে। তিনিও যেন অসাম্য ভেঙে সাম্য গড়ার বার্তা দিয়েছেন।

ছোটবেলায় বাড়িতে পিসিকে দেখেছেন পুরোহিতের কাজ করতে। পিসির কাছেই পুজোর কাজে হাতেখড়ি। তবে ইচ্ছা থাকলেও কোনওদিন বাড়ির বাইরে পুরোহিতের কাজ করার কথা ভাবেননি শিলিগুড়ির বাবুপাড়ার বাসিন্দা তনুশ্রী। সরস্বতীপুজোয় স্বপ্নপূরণের সুযোগ আসে। তনুশ্রীর কথায়, পূজার্চনা থেকে বিয়ে সবই করতে পারি। তবে কোনওদিন বাড়ির বাইরে গিয়ে এ কাজ করব ভাবিনি। এই সুযোগ আসার পর প্রচুর মানুষের প্রশংসা পেয়েছি। পুরোহিত মানে যে শুধু পুরুষ নয়, মহিলারাও সমান পারদর্শী, আজকের যুগে সেটা আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। সিনেমায় ঋতাভরীর এমন উদ্যোগকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি মেনে নেয়নি। তনুশ্রীর ভাগ্য অবশ্য প্রসন্ন। এই কাজে তাঁকে সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন তাঁর স্বামী, শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকে।

- Advertisement -

এরপর আর শুধু দেবদেবীর পুজোয় পুরোহিত নয়, বিয়েবাড়িতে চার হাত এক করার ভূমিকায়ও বসতে চান তিনি। ইতিমধ্যে বিয়েতে পুরোহিতের কাজ করার আমন্ত্রণও পেয়ে গিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে প্রথম বিয়েবাড়িতে পুরোহিতের কাজ করবেন তিনি। তনুশ্রীর কথায়, আমি চাই মহিলারা যে কাজ করতে ভালোবাসে, তাদের যেন সেই কাজ করতে দেওয়া হয়।