ভালোবাসার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চান তপন

108

বিশ্বজিৎ সাহা,মাথাভাঙ্গা : অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা থেকে মাথাভাঙ্গা মহকুমার প্রত্যন্ত জোরপাটকি গ্রামে এসে ফুল চাষ শুরু করে বর্তমানে কোচবিহার জেলার অন্যতম ফুল উৎপাদক তপন পয়রা। নিজের অভিজ্ঞতা ও ফুল চাষের কৌশল অন্যকে জানাতেও কোনও কার্পণ্য নেই তপনবাবুর। প্রথমে পলিহাউসে জারবেরা চাষ করে অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তপনবাবু। তিনি জারবেরা চাষে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে পরবর্তীকালে ২০১০ সালে গোলাপ চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহে পুনে ও বেঙ্গালুরু থেকে আসা ডাচ গোলাপের পাশাপাশি তাঁর বাগানে উৎপাদিত মিনি পার্ল প্রজাতির গোলাপ ভালোবাসার মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এই ভেবেই খুশি তপনবাবু।

শুক্রবার জোরপাটকিতে নিজের গোলাপ বাগানে গোলাপ গাছের পরিচর্যা ও বিক্রির জন্য ফুল তুলতে তুলতে তপনবাবু বলেন, আমার বাগানে ৩ হাজার গোলাপ গাছ রয়েছে। সারা বছরই গোলাপ ফোটে। তিনি জানান, বছরের ফেব্রুযারি মাসে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহেই সবচেযে বেশি দাম পাওয়া যায়। এছাড়া অগ্রহায়ণ ও মাঘ মাসে বিয়ের মরশুমেও গোলাপের ভালো দাম পাওয়া যায়। পেশাগতভাবে ফুল উৎপাদক হলেও ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহে গোলাপ বিক্রি করে তিনি বেশি আনন্দ পান বলে অকপট তপনবাবু। তিনি বলেন, আমাদের কৈশোর ও যৌবনে এখনকার মতো ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা সপ্তাহ নিয়ে তেমন মাতামাতি ছিল না, তবে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে লুকিযে সিনেমা দেখেছি।

- Advertisement -

আর এখন আমার উৎপাদিত গোলাপ অনেকের ভালোবাসার মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। এটা ভেবেই আনন্দ হয়। নিজের বাগানের গোলাপ চাষ নিয়ে নানা পরিকল্পনা রয়েছে তপনবাবুর। তিনি বলেন, আগামী বছর আধুনিক পদ্ধতিতে নতুন করে গোলাপ বাগান তৈরি করব। স্থানীয় বাজারে গোলাপের যা চাহিদা তাতে প্রতিদিন আমার বাগানে উত্পাদিত ৫০০ গোলাপে তা পূরণ হয় না। মাথাভাঙ্গা শহরের অন্যতম ফুল বিক্রেতা সুনু দাস বলেন, তপনবাবুর উৎপাদিত মিনি পার্ল প্রজাতির গোলাপ কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে আমদানি করা ওই প্রজাতির গোলাপের চেয়ে উন্নতমানের।