বাগডোগরায় পুরসভা গঠনের প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক তর্জা

শিলিগুড়ি : আঠারোখাই-শিবমন্দির এবং বাগডোগরাকে পুরসভা গঠনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে রাজনীতি প্রকট হয়ে উঠল। মহকুমা পরিষদ যে প্রস্তাব নিয়েছে, তাকে স্বাভাবিকভাবেই বাম-কংগ্রেস জোট স্বাগত জানিয়েছে। বেলা শেষে কেন, প্রশ্ন তুলে পাঁচ বছর মহকুমা পরিষদের ক্ষমতায় থাকা বামেদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল এবং বিজেপি। ব্যর্থতা ঢাকতে এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই এলাকা দুটির সহানুভতি কুড়াতে প্রস্তাব-রাজনীতি বলে মনে করছে পদ্ম এবং ঘাসফুল শিবির।

তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, ৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকেও বামেরা ওই এলাকা দুটির উন্নয়নে পুরসভা গঠন করতে পারেনি। পাঁচ বছর মহকুমা পরিষদের ক্ষমতায় থাকার মধ্যেও এমন প্রস্তাব নেওয়া হয়নি। এখন মেয়াদ শেষে পুরসভার ভাবনা। এই ব্যাপারে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকারই। বামেদের বিরুদ্ধে ভোট রাজনীতির অভিযোগ তুলে বিজেপির শিলিগুড়ির সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক আনন্দময় বর্মন বলেন, পাঁচ বছরের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে বুঝতে পেরেই প্রস্তাবের নাটক। তবে ভোটের রাজনীতির জবাব মানুষ দেবেন।

- Advertisement -

আঠারোখাইকে পুরসভা গঠনের উদ্যোগ বাম জমানায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির সম্পাদক জীবেশ সরকারের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় আঠারোখাই বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু এখন মহকুমা পরিষদ যে প্রস্তাব নিয়েছে তা সময়ে দাবি। ১৩ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় এই প্রস্তাব তিনি তুলেছিলেন দাবি করে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক শংকর মালাকার বলেন, বিষয়টি শুধু বিধানসভায় উত্থাপন করাই নয়, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সঙ্গে কথা বলব।

মহকুমা পরিষদের পুরসভা-প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে শিলিগুড়িতে। নগরায়ণ ঘটায় আঠারোখাই-শিবমন্দির এবং বাগডোগরায় পুরসভা গঠন প্রয়োজন বলে মনে করছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। বৃহস্পতিবার বর্তমান বোর্ডের শেষ অধিবেশনে পুরসভা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করা হয়। পঞ্চায়েতের পক্ষে ওই দুটি এলাকায় পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে বক্তব্য সভাধিপতি তাপস সরকারের। কিন্তু মেয়াদ শেষের সময় কেন এই প্রস্তাব নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিধানসভা ভোটের মুখে রাজনীতি করতে এই ধরনের প্রস্তাব বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।