আগুনে পুড়েছে বাড়িঘর, খোলা আকাশের নীচে ঠাঁই তসলিমার

419

মুরতুজ আলম, সামসী: তসলিমার স্বামী মারা গিয়েছে ১৫ বছর আগেই। বসবাসের জন্য একটি কুঁড়ে ঘরই ছিল তাঁর সম্বল। সোমবার গভীর রাতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সেই ঘরটিও। চাঁচল-১ ব্লকের মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মল্লিকপাড়া গ্রামে ৬৫ বছর বয়সী অসহায় তসলিমা বেওয়ার বাড়ি। গতকাল গভীর রাতে আগুনে ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় অসহায় অবস্থায় খোলা আকাশের নীচে বর্তমানে ঠাঁই নিয়েছেন তিনি।

গতকাল গভীর রাতে তসলিমার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। প্রাথমিকভাবে তসলিমার অনুমান, মশা তাড়ানোর কয়েল থেকে আগুন লেগেছে। কোনও মতে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি। প্রতিবেশীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও ভস্মীভূত হয়ে যায় ঘরে মজুত খাদ‍্যদ্রব‍্য-আসবাবপত্র সহ সবকিছু। সন্তানহীন বিধবা তসলিমার পরিবারে নিজের বলতে কেউ নেই। শুধু ভিটেটুকুই সম্বল। জমি জায়গাও নেই। বিধবা ভাতা আজও চালু হয়নি তাঁর। মেলেনি আবাস যোজনার পাকা ঘরও। আগুনে একমাত্র ঘরটি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। বাঁশের বেড়া দিয়ে টিনের ছাউনি বিশিষ্ট একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে এতদিন বেশ সুখেই কাটছিল তসলিমার জীবনের শেষ সময়টুকু। তার মধ‍্যেই আগুনের কড়াল গ্রাসে সব হারিয়ে শীতকালের হাঁড় কাপানো ঠান্ডায় খোলা আকাশের নীচে ঠাঁই হয়েছে তাঁর।

- Advertisement -

মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গোপাল চৌধুরীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তসলিমার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে পঞ্চায়েতের তরফে শীঘ্রই ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হবে। আবাস যোজনার নতুন তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে। যদি না থাকে তাহলে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পঞ্চায়েত সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই মহিলার বার্ধক‍্য ভাতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবা হবে। চাঁচল-১ ব্লকের বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য অবশ‍্য ওই অসহায় বৃদ্ধা তসলিমা বেওয়াকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।