মইন প্রসঙ্গে ফের বিস্ফোরক তসলিমা

লন্ডন : মইন আলি বিতর্ক এবং তসলিমা নাসরিন।

আইপিএল শুরুর আগে যা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল বিশ্বক্রিকেটের মঞ্চে। যে বিতর্কে নাম জড়িয়ে গিয়েছিল জোফ্রা আর্চার সহ ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের একাধিক তারকার। অনেকেই তসলিমার টুইট অ্যাকাউন্ট বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন। সেই বিতর্কের রেশ ফিকে হওয়ার আগে ফের মুখ খুললেন তসলিমা। এবং এবারও তাঁর নিশানায় সেই মইন আলি।

- Advertisement -

টুইটারে এর আগে ইংরেজ অলরাউন্ডারকে বিঁধে তসলিমা লিখেছিলেন, মইন যদি ক্রিকেটার না হতেন তাহলে নিশ্চয় সিরিয়ায় আইএসআইএসে যোগ দিতেন। সেই বক্তব্যে আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল। পরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে টুইট মুছতে বাধ্য হন লজ্জার লেখিকা।

এদিন নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তসলিমা বলেছেন, দোষটা কী ছিল আমার? একটা কৌতুক। আজান শোনামাত্র যে মানুষ খেলার মাঠেই নিজের জায়নামাজ পেতে নামাজ পড়েন। খেলা চলতে থাকলে আম্পায়ারকে বলে চলেও যান নামাজ পড়তে। বিজয়ে উৎসবে শ্যাম্পেন খুললে দ্রুত সরে যান দূরে, বিয়ার কোম্পানির লোগো থাকলে জার্সি পড়বেন না বলে জানিয়েছেন, ১৪০০ বছর আগের আদেশ অনুযায়ী গোঁফ ট্রিম করতে থাকেন আর দাঁড়ি বড় করতে থাকেন, কোনও মেয়ে সাাংবদিককে সাক্ষাৎকার দিলে মুখের দিকে একটিবারও তাকান না, স্ত্রীকে হিজাব পরান, জিম্বাবোয়ের মুফতি মেঙ্ককে নিজের বন্ধু ও ভাই বলে মানে, যে মুফতি মেঙ্ক ব্যভিচারীদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার শাস্তি অনুমোদন করেন, তার সঙ্গে লাইট আপন লাইট অনুষ্ঠানে মইন আলি একসঙ্গে মঞ্চে বসেন, যে মইন আলি বলেছেন তিনি ক্রিকেট ত্যাগ করবেন কিন্তু ধর্মের একটি অংশও ছাড়বেন না তাকে নিয়ে যদি কৌতুক করি তাহলে কি ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট উড়ে যাবে?

তসলিমার দাবি, টুইটার কর্তৃপক্ষ তাঁর নিন্দুকদের দ্বারাপ্ররোচিত হয়ে তাঁর অ্যাকাউন্ট বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন। তাই আগের টুইটটি মুছতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, আমি পিঠ বাঁচানোর জন্য কিছু কি করি? করেছি কখনও? যদি আপোস করতে জানতামই তাহলে তো দেশেই বাস করতে পারতাম, তাহলে তো পশ্চিমবঙ্গেই বাস করতে পারতাম, সর্বত্র মার খেতাম না, কোথাও থেকে বিতাড়িত হতাম না, দুঃসময়ে কেউ না কেউ আমার পাশে থাকত। ওটিই তো শিখিনি, ওই আপোস করতে।

মইনকে জঙ্গি তকমা দেওয়া নিয়ে তসলিমার সমালোচনায় সরব হয়েছেন নেটিজেনরা। তবে সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে লেখিকা জানিয়েছেন, তিনি ক্রিকেটার মইনকে জঙ্গি বলেননি। মইন ক্রিকেটার না হলে কী করতেন, সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন। সঙ্গে বলেছেন, আমি নাকি মুসলিম বিদ্বেষী! আরও কত মুসলিম খেলোয়াড় আছে, কই তাদের নিয়ে তো কিছু বলিনি। মুসলিম বিদ্বেষী হলে দুনিয়ার তাবৎ মুসলিমকে আমি ঘৃণা করতাম। কই তা তো করিনি। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব সমালোচককে নিজের বিবৃতিতে বিঁধেছেন তসলিমা। পাশাপাশি বাক স্বাধীনতা হরণ নিয়ে এই প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন তিনি।