হাতিদের করিডরে ব্লেডতারের বেড়া দিয়েছে চা বাগান কর্তৃপক্ষ

437

ওদলাবাড়ি : জঙ্গলঘেঁষা চা বাগানের নতুন চারাগাছ বাঁচাতে হাতিদের করিডোরে বিরাট এলাকা জুড়ে ব্লেড তারের বেড়া লাগানোর অভিযোগ উঠল ওদলাবাড়ি চা বাগানের বিরুদ্ধে। চা বাগানের ১ নম্বর নতুন প্ল্যান্টেশন এলাকায় প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে নতুন করে চা গাছের চারা লাগানো হয়েছে। নতুন প্ল্যান্টেশনে কর্মরত চা শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, প্রায় সাত মাস আগে লাগানো চা গাছের চারাগুলো বুনো হাতির পাল থেকে রক্ষা করতে ব্লেড তারের বেড়া লাগিয়ে দিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। জঙ্গলের গা ঘেঁষে বন্যপ্রানীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক ব্লেড তারের বেড়া একেবারে হাতিদের করিডোরে লাগিয়ে দেওয়ার বিষয়টিতে  ব্রাত্য বসুকে এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বৈকুন্ঠপুর বন বিভাগের তারঘেরা রেঞ্জের গভীর জঙ্গল লাগোয়া চা বাগানের যে অংশে ব্লেড তারের বেড়া লাগানো হয়েছে সেটা দীর্ঘদিন ধরেই বুনো হাতির করিডোর। ধুমসিগাড়া গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলের এই দিক দিয়েই প্রায় প্রতিদিন হাতির পাল সন্ধ্যা নামতেই বেরিয়ে আসে। গত শনিবার রাতেও শাবক সহ প্রায় ৫০টি হাতির একটি দল এই পথ ধরেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সোনালি চা বাগানের দিকে চলে গিয়েছে। বৈকুণ্ঠপুরের এই জঙ্গল থেকে বেরিয়েই প্রতিবছর শতাধিক হাতির দল নিয়মিত তিস্তা পেরিয়ে নেপাল সীমান্তের মেচি নদী পর্যন্ত চলাফেরা করে।

- Advertisement -

বুধবার জঙ্গল ঘেঁষা ওদলাবাড়ি চা বাগানের ১ নম্বর নতুন প্ল্যান্টেশন এলাকায় পৌঁছে দেখা গেল ব্লেড তারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় হাতির দলের প্রচুর পায়ের ছাপ এবং মল পড়ে আছে। ব্লেড তারের বেড়ার দশ ফুট এলাকায় খুঁটিগুলো সব ওপড়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরিবেশপ্রেমীদের আশঙ্কা, হাতির পাল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বাধা পেয়ে খুঁটি উপড়ে দিয়েছে। সেই সময় তাদের দলের কেউ ব্লেডতারের খোঁচায় জখম হতে পারে। বনকর্মীরাও বলছেন, সম্পূর্ণ নিয়ম ভেঙে ব্লেডতারের বেড়া দিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন চা বাগান মালিকদের সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, বন্যপ্রাণীদের চলাচলের করিডরে ব্লেডতারের বেড়া লাগানো যাবে না। সেই সময় বাগান মালিকরা তাতে সম্মত হয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ওদলাবাড়ি চা বাগান মালিকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। বাগানের ওই সেকশনের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিঃ চন্দু নামে এক সহকারী ম্যানেজারকে ফোনে ধরা হলে বিষয়টি শোনার পর বোনাস পেমেন্টে ব্যাস্ত আছেন বলে জানিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। বাগানের ম্যানেজারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয় নি।

অন্যদিকে, বন দপ্তরের পক্ষ থেকে বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের এডিএফও রাহুল দেব মুখার্জি বলেন, ‘ব্লেডতারের বেড়ার মতো বিপজ্জনক কোনো কিছুই বন্যপ্রানীদের যাতায়াতের পথে বসানো যায় না। এতে বুনো হাতিদের বিশেষ করে দলের সঙ্গে থাকা শাবকদের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।যার ফলে আবার হাতির দল ক্ষেপে গিয়ে সংলগ্ন গ্রামাঞ্চল অথবা শ্রমিক মহল্লায় তান্ডব শুরু করে দিতে পারে।বিষয়টি নিয়ে তারঘেরা রেঞ্জ অফিসার ওদলাবাড়ি চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজারের সাথে ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন। চা বাগানের তরফে বন দপ্তরকে উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ছবি – ওদলাবাড়ি চা বাগানে হাতির করিডোরে ব্লেডতারের বিপজ্জনক বেড়া।

তথ্য ও ছবি- অনুপ সাহা