প্রবল বর্ষণ ও রোগ পোকার আক্রমণে জেরবার উত্তর দিনাজপুরের ক্ষুদ্র চা চাষিরা

166

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: প্রবল বর্ষণ ও রোগ পোকার আক্রমণে জেরবার উত্তর দিনাজপুর জেলার ক্ষুদ্র চা চাষিরা। এবার পাতার দাম ভালো থাকলেও অতি বৃষ্টির জেরে পাতার উৎপাদন অর্ধেকেরও কম হয়েছে। তার ফলে লালপোকা, চা মশা, লুপার ক্যাটার পিলারের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে জেলার বাগানগুলিতে। ফলনও তলানিতে ঠেকেছে।

উত্তর দিনাজপুর স্মল টি গ্রোয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবাশিস পাল বলেন, ‘এবার ইসলামপুর মহকুমায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি। সূর্যের আলো পাচ্ছে না। সালোক সংশ্লেষ না হওয়ায় পাতার বৃদ্ধি হচ্ছে না। ফলে লালপোকা, চা মশা, লুপার পোকা বেড়ে গিয়েছে। দাম ভালো হলেও উত্তর দিনাজপুর জেলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের প্রায় ৪০ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি ত্রিফলা আক্রমণে নাজেহাল। তিনি বাগানগুলি বিমার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

- Advertisement -

চা চাষিরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাতার ফলন অর্ধেকেরও কম। অতি বৃষ্টির ফলে জেলায় লুপার ক্যাটার পিলার ও চা মশার উপদ্রব যেভাবে বেড়েছে তা গত ১০ বছরে এরকম দেখা যায় নি। চাষিরা এবার ফলনের দাম পাচ্ছে না। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘এবার চাষিদের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কল্পনাতীত। একদিকে প্রকৃতির মার, অপরদিকে রোগ পোকার আক্রমণে নাজেহাল। আমরা দীর্ঘদিন থেকে চা বাগানকে বীমার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। স্বাভাবিক ফলনের ৪০ শতাংশ ফলন আমরা পাচ্ছি। দাম থাকলে কি হবে, ফলন না থাকায় আমরা সর্বশান্ত।’

নর্থ বেঙ্গল টি প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর শীল জানান, এবার শুধু চাষি নয়, আমাদের অবস্থাও খুবই খারাপ। কাঁচা পাতার দাম আকাশ ছোঁয়া। গুনগত মান ভালো না। পাতার অভাবে ফ্যাক্টরিগুলি ধুঁকছে। উৎপাদন অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। পাতার অভাবে অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধের মুখে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। চা শিল্পের ভবিষ্যত কি তা বলা মুশকিল।
এই বিষয়ে ভারতীয় চা পর্ষদের ডেপুটি ডিরেক্টর আর, কুজুর জানান, চা পর্ষদ থেকে নির্দেশ পেলে চাষিদের বাগান কৃষি বীমার আওতায় আনা হবে।