পুজোর মুখে চা বাগান বন্ধ করল মালিকপক্ষ

461

রাজগঞ্জ, ২৩ সেপ্টেম্বর : পুজোর মুখে বন্ধ হয়ে গেল রাজগঞ্জের রঙ্গটি চা বাগান । প্রায় একশো শ্রমিক কাজ হারালেন। সোমবার শ্রমিকরা কাজে গিয়ে দেখেন চা বাগানে সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক নোটিশ ঝুলিয়ে চলে গিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। মালিকপক্ষের অভিযোগ, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন থেকে সঠিকভাবে পাতা তুলছে না। এতে চায়ের গুণগতমান খারাপ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। সংস্থার সুনাম নষ্ট হওয়া ছাড়াও চা বাগানেরও ক্ষতি হচ্ছে। সঠিকভাবে পাতা তোলার জন্য অনেকবার শ্রমিকদের বলা হলেও তারা ভ্রুক্ষেপ করছে না। তাই নিরুপায় হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও মালিকপক্ষের অভিযোগ মানতে রাজি নয় শ্রমিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। ওই চা বাগানে ৮৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। তার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। ওই শ্রমিকদের একটা অংশ তৃণমূলের তরাই ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ( টিডিপিডব্লিউইউ ) এবং অন্যরা কংগ্রেসের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স (এনইউপিডব্লুইউ ) শ্রমিক সংগঠনের সদস্য। টিডিপিডব্লিউইউ-এর শ্রমিকরা জানান, রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তারা জানতে পারেন মালিক পক্ষ সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক নোটিশ ঝুলিয়ে চলে গিয়েছেন । বাগানে গিয়ে ওই নোটিশ দেখার পর বেজায় চটে যান সমস্ত শ্রমিক। এদিকে চা বাগানের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব চা কারখানা রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের নোটিশে কারখানা বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ নেই। তাঁদের বক্তব্য, মিথ্যা অভিযোগ তুলে চা বাগান বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করা হলে কারখানাও বন্ধ রাখতে হবে।

এনইউপিডব্লিউইউ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক দেবব্রত নাগ বলেন, ‘মালিকপক্ষ যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা । বোনাস কম দেওয়া বা না দেওয়ার জন্য পরিকল্পতভাবে পুজোর মুখে চা বাগান বন্ধ করা হয়েছে। টিডিপিডব্লিউইউ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন দে বলেন, কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই চা বাগানে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রমিক সংখ্যা অনেক কম। এছাড়া মেশিন দিয়ে পাতা তোলানো হচ্ছে। বেশ কয়েকজন শ্রমিকের বয়স অবসরের সীমা পার হয়ে গেলেও তাঁদের দিয়ে পাতা তোলানো হচ্ছে । মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিতে টালবাহানা করছে। গ্র্যাচুইটি ও প্রাপ্য মজুরি দিচ্ছে না । শ্রমিক আবাসগুলি মেরামত করছে না । শ্রমিক আবাসে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। এই দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন করা হলেও কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা হয়নি । পুজোর মুখে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে চা বাগানে সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক নোটিশ ঝুলিয়ে চলে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলার শ্রম দপ্তরে অভিযোগ জানানো হবে।

- Advertisement -

ওই চা বাগানের ডিরেক্টর ননীগোপাল পাল বলেন, শ্রমিক বা শ্রমিক প্রতিনিধিরা যে অভিযোগ করছেন তা সঠিক নয়। অনেকবার বলা সত্ত্বেও কয়েক বছর থেকে শ্রমিকরা সঠিকভাবে কাজ করছে না । ফলে লোকসান হচ্ছে। তাই চা বাগান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।

ছবি- বাগান বন্ধের নোটিশ দেখে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

ছবি ও তথ্য – রণজিৎ বিশ্বাস ।