জলপাইগুড়ি :  বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানে মাত্রাতিরিক্ত এবং সাধারণভাবে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। জুলাইয়ের স্বাস্থ্য শিবির থেকেই এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে,  জলপাইগুড়ি জেলার বন্ধ, পরিত্যক্ত, রুগ্ন ১৯টি চা বাগানে ইনফ্যান্ট মর্টালিটি ডেথ বা  প্রসবকালীন শিশু মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। এমনকি প্রসবকালে মায়ের মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে বলে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার জানিয়েছেন। তবে, বন্ধ, রুগ্ন,পরিত্যক্ত চা বাগানে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু ও মায়েদের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বিগ্ন জেলা সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। বুধবার জেলাশাসকের অফিসে বন্ধ, রুগ্ন চা বাগান বিষয়ক টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে ১৯ টি বন্ধ,রুগ্ন, চা বাগানে বাড়তি নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি।

জেলার ১৯ টি যে চা বাগান জেলা প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার মধ্যে মানাবাড়ি, রেড ব্যাংক, সুরেন্দ্রনগর এবং ধরনিপুর এই  চারটি চা বাগান বন্ধ। রায়পুর  বাগানটি পরিত্যক্ত। বাকিগুলি রুগ্ন চা বাগান। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: জগন্নাথ সরকার বলেন,  ‘দুটি সংস্থাকে দিয়ে বাগানগুলিতে আমরা মেডিকেল ক্যাম্প করাই। গত বছর এই ১৯ চা বাগানে শিশু মৃত্যু ছিল জুন পর্যন্র ১২ টি।এবার তা কমে দাড়িয়েছে ছয়টিতে। প্রসুতি মায়ের মৃত্যু গতবছর যেখানে চারটি ছিল এবার তা কমে একটি হয়েছে।

বন্ধ, রুগ্ন, পরিত্যক্ত ১৯ টি চাবাগানে জুলাই  মাসে ১১-২৪ তারিখ পর্যন্ত মাত্রাতিরিক্ত এবং সাধারণভাবে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্যাম্প করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি মাসের শিবিরের হিসাব অনুযায়ী সাধারণ অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল ৫১৪ টি শিশু। কিন্তু জুলাইয়ের ক্যাম্পে আরও নতুন শিশুদের অপুষ্টির লক্ষণ ধরা পড়েছে। এমনকি মাত্রাতিরিক্ত অপুষ্টির শিকার ৭৯ টি শিশুকে চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শিবির করা হলেও সেখানে সংখ্যাটি এনেকটাই বেড়েছে। দুই ক্ষেত্রেই  ১০ শতাংশ হারে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা  বেড়েছে।

যারা মাত্রাতিরিক্তভাবে অপুষ্টিতে আক্রান্ত তাদের কয়েকজন শিশুকে সাপ্টিবাড়ির বিশেষ অপুষ্টি দূরীকরণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভরতি করা হয়েছে। মা ও শিশুদের গুরুত্ব দিয়েই চিকিৎসা, খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জেলা আইসিডিএস আধিকারিক ধনপতি বর্মন জানান।

জেলা শাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি জানান, বন্ধ,পরিত্যক্ত,রুগ্ন চা বাগানে এখন কেবলমাত্র চা বাগিচা আইন অনুযায়ী কাজ হয় না। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পরিসেবাও দেওয়া হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজ বেশি করে দেওয়া, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিসেবা দিতে বলা হয়েছে। বন্ধ,রুগ্ন, চা বাগানগুলির অধীন ৩৫ টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন ব্লক,খাদ্য, অতিরিক্ত জেলা শাসক( উন্নয়ন) মলয় হালদার,জলপাইগুড়ি সদর মহকুমা শাসক রঞ্জন দাস প্রমুখ সহ মোট ৩১ টি দপ্তরের আধিকারিকেরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ছবি- চা বাগানে স্বাস্থ্য শিবির চলছে।

তথ্য ও ছবি – পূর্ণেন্দু সরকার