বাগানে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর দাবি মালিকদের

312

শুভজিত্ দত্ত,  নাগরাকাটা : কেন্দ্রীয় বাজেট প্রস্তাব অনুয়ায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বছরে এক কোটি টাকা তুললে যদি ২ শতাংশ হারে টিডিএস দিতে হয় তবে চা শিল্পের কাছে ক্যাশলেস মজুরির দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প উপায় থাকবে না। তবে ক্যাশলেস মজুরি চালু করার প্রধান বাধা বাগানগুলিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকা। বাগান মালিকদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার যদি টিডিএস থেকে চা শিল্পকে অব্যাহতি না দেয় তবে বাগানগুলিতে দ্রুত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন যাতে এগিয়ে আসে সেই দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে এই দাবিতে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের জেলাশাসকদের চিঠি পাঠিয়েছে চা মালিকদের অন্যতম সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (টাই)।

টাই-এর ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, টিডিএস থেকে ছাড় চেয়ে আমরা কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো বার্তা আসেনি। একান্তভাবেই যদি বাগানগুলিকে টিডিএসের আওতায় নিয়ে আসা হয় তবে শ্রমিকদের নগদে মজুরি দেওয়া আর সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিকাঠামো গড়ে না উঠলে মজুরি নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সব কিছু জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আরেকটি সংগঠন ডিবিআইটিএ-র সম্পাদক সুমন্ত গুহঠাকুরতা বলেন, টিডিএস চালু হলে চা শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। তা থেকে বাঁচতে অনলাইনে মজুরি দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। যদিও বাগানগুলির শ্রমিকরা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া মজুরির টাকা ওঠাবে কোথা থেকে তা নিয়ে বড়ো প্রশ্ন রয়েছে। বেশিরভাগ বাগানেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই। কাজে গরহাজির থেকে দূর-দূরান্তের ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কোনো এটিএম কাউন্টার থেকে তাঁরা যদি মজুরি আনতে চলে যায় তবে ক্ষতি শ্রমিক ও বাগান মালিক দুজনেরই। কারণ, এতে নূন্যতম একদিনের কর্মদিবস নষ্ট হবে। চা শ্রমিকদের যৌথ সংগঠন জয়েন্ট ফোরামের অন্যতম আহ্বায়ক মণিকুমার দার্নাল বলেন, নগদে মজুরি চা শিল্পের শতাব্দি প্রাচীন দস্তুর। ব্যাংকের কোনো সুবিধা না গড়ে তুলে অ্যাকাউন্টে মজুরি প্রদানের মতো কোনো ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। সমাজের প্রান্তিক মানুষের রুটিরুজির সংস্থান চা শিল্পকে যাতে টিডিএস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সেই দাবিতে আমরাও কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি।

- Advertisement -

টিডিএস প্রযোজ্য হলে চা শিল্পের অসুবিধে কোথায়? উত্তরে চা মালিকদের সংগঠনগুলি মোটের ওপর একটি হিসেব পেশ করে জানাচ্ছে, একেকটি বাগান বছরে মজুরি-বোনাস সহ আরও কিছু খাতে গড়ে ২০ কোটি টাকা খরচ করে। ওই টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই ওঠানো হয়। এখন টিডিএস দিতে হলে ওই বাবদ ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। কোনো বাগানই এটা হোক তা চাইবে না। টিডিএস যদিও বা ফেরত পাওয়া যায় তবে সেই প্রক্রিয়া বিস্তর জটিল ও সময় সাপেক্ষ। এটা বাগানগুলির কাছে এক ধরনের উত্পাদনের খরচ হিসেবেই প্রতিপন্ন হবে। প্রতি কিলোগ্রাম চায়ে উৎপাদন ব্যয় এর ফলে ৫ টাকা করে বেড়ে য়াবে বলেও প্রশাসনকে পাঠানো চিঠিতে টাই জানিয়েছে। টিডিএস ইশু্য়তে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সরকারের সঙ্গে কথা বলব।