নাগরাকাটা : স্কুলে আসতে গেলে ৮ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। অন্যদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা থাকলেও তাদের জন্য নেই। এমন সমস্যায় এখন পড়ুযাদের গরহাজিরা ক্রমশ বাড়ছে লুকসানের লালবাহাদুর শাস্ত্রী বাংলা-হিন্দি হাই স্কুলে। এমনকি স্কুলছুটও হচ্ছে কেউ কেউ।  যে শ’দুয়েক ছাত্রছাত্রী বছরের পর বছর এমন পরিস্থিতির শিকার তাঁরা সবাই গাঠিযা চা বাগানের। ইতিমধ্যেই বাগান পরিচালক থেকে শুরু করে প্রশাসনেরও দ্বারস্থ হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কাজের কাজ এখনো কিছুই হয নি।

ঘটনাচক্রে ওই বাগানেরই বাসিন্দা নাগরাকাটার বিধাযক শুক্রা মুন্ডা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানা আছে। ভাীবে ওই ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা দুর করা যায় তা দেখছি।’ বাগানের ম্যানেজার নবীন মিশ্র বলেছেন, ‘বাস নিযে পড়ুয়াদের কোনো দাবিপত্র হাতে আসেনি। সারাদিনে আমাদের স্কুলবাস ৬ বার যাতাযাত করে। সাড়ে তিনশো ছাত্র ছাত্রীকে নানা স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসা হয। গোটা এলাকা সব থেকে বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে আমরাই বাসে করে স্কুলে পৌঁছে দিই। বাগানের যা আর্থিক পরিস্থিতি তাতে লুকসানের স্কুলের জন্য আলাদা করে বাস দেওযা সাধ্যের বাইরে। প্রশাসনেরও বিষয়টি নিযে ভাবা উচিত।’ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক টিকারাম ছেত্রী বলেন, ‘দিনে দিনে গাঠিযা বাগান থেকে আমাদের স্কুলে পড়াশোনা করতে আসা ছাত্রছাত্রীদের আসা যাওযার সমস্যাটি জটিল হচ্ছে। এতটা পথ হেঁটে আসতে হ দেখে অনেকেই স্কুলে অনিযমিত হযে পড়েছে। ধীরে ধীরে স্কুল ছুটের তালিকাতেও নাম লেখাচ্ছে কেউ কেউ। সবথেকে বড় ব্যাপার বাগানের মাঝখানের নির্জন রাস্তা দিযে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এভাবে যাতাযাত নিয়ে প্রতিদিনই দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয। বুনো জন্তুর ভয়ও থাকে।

ছবি – লুকসানের হাইস্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরছে গাঠিযা বাগানের পড়ুযারা।

ছবি ও তথ্য – শুভজিৎ দত্ত