নাগরাকাটা, মার্চঃ হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ ঘিরে এখন আশাবাদী উত্তরবঙ্গের চা মহল। শ্রমিক থেকে মালিক সবপক্ষই জানাচ্ছে, এবার বিচার সংক্রান্ত প্রয়োজনে জলপাইগুড়িতে যেতে আর কোনো সমস্যা রইল না। চা মহল সূত্রের খবর, হাইকোর্টে চা শিল্প সংক্রান্ত নানা ধরনের মামলা দায়ের হয। শ্রমিক থেকে মালিক সবপক্ষই মামলা করে থাকেন। বকেয়া নিয়ে শ্রমিকরা হাইকোর্টে যেমন মামলা দায়ের করছেন, ঠিক তেমনই অন্তর্বর্তীকালীন মজুরিবৃদ্ধির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মালিকদেরও মামলা দায়ের করার নজির চা শিল্পে রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে ডানকানস-এর বাগানগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে ওই চা শিল্পগোষ্ঠীর হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার উদাহরণও তুলে ধরছেন অনেকে। এ ধরনের নানা  প্রয়োজনে এখন জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চেই মামলা দায়ের করা যাবে বলে জানাচ্ছেন চা শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

চা মালিকদের একটি সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (টাই)-র ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ জলপাইগুড়িতে চালু হতে চলায় চা শিল্পের সঙ্গে জড়িতদেরও এখন থেকে বিচারের প্রয়োজন হলে আর কলকাতা ছুটে যেতে হবে না।  মামলাকারীদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে। যেটা কলকাতায় মামলা দায়ের করা হলে উত্তরবঙ্গের বাগানগুলির বেশিরভাগের পক্ষেই সম্ভব হত না। ডিবিআইটিএ-র সম্পাদক সুমন্ত গুহঠাকুরতাও একই কথা বলেছেন। চা শ্রমিকদের যৌথ সংগঠন জয়েন্ট ফোরাম-এর আহ্বায়ক মণিকুমার দার্নাল বলেন, কোম্পানি সংক্রান্ত মামলা, বন্ধ বাগানের লিকু্ইডেশন এই সমস্ত বিষয় এখন জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চের মাধ্যমেই করা যাবে। ফলে শ্রমিকদের মামলার খবরাখবর রাখতে সুবিধে হবে। শ্রমিকরা যদি সার্কিট বেঞ্চে বাগানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করে তবে খরচও কলকাতার তুলনায় অনেক কম হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- সার্কিট বেঞ্চের পরিকাঠামো ব্যবহার করে এখন খুব সহজেই শিল্প-বিরোধ নিষ্পত্তির সেভেন ট্রাইবিউনালকে চাঙ্গা করা যেতে পারে। সেটা বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। চা শিল্প সংক্রান্ত বহু মামলা সেখানে ঝুলেও আছে। চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিযনের সিনিযর ভাইস প্রেসিডেন্ট বাবলু মুখার্জি বলেন, সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধনের দিকে উত্তরবঙ্গের ২৮২টি চা বাগানের সাড়ে ৪ লক্ষ শ্রমিক অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন। কারণ শীর্ষ বিচার ব্যবস্থা এখন তাঁদের হাতের নাগালে। খুশি উত্তরবঙ্গের ৫০ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষিও।

জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজযগোপাল চক্রবর্তী বলেন, ক্ষুদ্র চাষিদেরও নানা সমস্যা রয়েছে। সেজন্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হওযা এখন অনেক সহজ হয়ে গেল। এছাড়া চা নিযে জনস্বার্থের মামলাও এখন জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চে যে কেউ করতে পারবেন। উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের কাছে যেটা এতদিন দারুণ অসুবিধেরই ছিল।