টি পার্কে তাণ্ডব চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল শুল্ক দপ্তরের অফিস, অভিযুক্ত আইএনটিটিইউসি

197

শিলিগুড়ি: শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তাল হয়ে উঠল নিউ জলপাইগুড়ির কাছে টি পার্ক এলাকা। উত্তেজনার রেশ ছড়াল সংলগ্নে এলাকাতেও।। বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই শিলিগুড়ির টি পার্কের ভেতরে থাকা কন্টেনার ডিপোতে শ্রমিক নিয়োগে স্থানীয়দের প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন আইএনটিটিইউসি নেতা প্রসেনজিৎ রায় ও তাঁর অনুগামীরা। কিন্তু টি পার্কের ব্যবসায়ীদের যুক্তি, অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে স্থানীয় অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ কম।

অভিযোগ, এই নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহরে থাকাকালীন প্রসেনজিৎ রায়ের অনুগামীরা ট্রাকে করে লোকজন নিয়ে এসে কার্যত তাণ্ডব চালায় টি পার্কের ভেতরে থাকা কন্টেনার ডিপোতে। রোষের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শুল্ক দপ্তরের ডেপুটি কমিশনারের অফিস। সংগঠনের পতাকা নিয়ে ঢুকে অফিসটি কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।  দপ্তরে ঢুকে তছনছ করা হয় নথিপত্র।  ল্যাপটপ-কমপিউটার ভেঙে ফেলা হয়। গোটা এলাকা কার্যত ‘দুস্কৃতী’ দখলে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন টি পার্কের কর্মীরা। দুপক্ষেরই অভিযোগ তাদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ তাণ্ডব চলার পর স্থানীয় নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়।

- Advertisement -

অন্যদিকে এই ঘটনারর রেশ ছড়িয়ে পড়ে শিলিগুড়ির নেতাজী মোড় এলাকায়।সেখানেও পথ অবরোধ করেন আইএনটিটিইউসি অনুগামীরা।যার ফলে এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। হেনস্থা হতে হয় পর্যটকদেরও।যদিও শেষ পাওয়া খবর অবধি বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। আইএনটিটিইউসি নেতা প্রসেনজিৎ রায় জানান, তাঁরা টি পার্কে স্থানীয় গাড়ি ও স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও আলোচনা ছাড়াই কম পয়সায় বাইরের শ্রমিক ও গাড়ি দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। উল্টে এদিন টি পার্কের ভেতর থেকেই তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সমস্যা না মিটলে অনশনে বসারও হুমকি দেন তিনি।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে শিল্প মহলে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে সবসময়ই উত্তরবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছেন সেখানে এই ঘটনা শিল্প সম্ভাবনায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন শিল্পপতিরা। গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সিআইআই, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স, নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মতো বণিকসভাগুলো।জানা গেছে গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে লিখিত অভিযোগ করতে চলেছেন শিল্পপতিরা।