কমিউনিটি হলে চায়ে দোকান, বিরক্ত হিলির বাসিন্দারা

103

পঙ্কজ মহন্ত, হিলি : তিন বছর আগে তৈরি হলেও এখনও উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে হিলি ব্লকের ত্রিমোহিনী হাটের কমিউনিটি হল। এই হল চালু না হওয়ার পিছনে প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়দের একাংশ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই কমিউনিটি হল চালু করার জন্য প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি। ফলে ধুলোবালি ও জঞ্জালে ঢেকে গিয়েছে কমিউনিটি হলের ভিতরের অংশ। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও মদের বোতলের স্তূপে পরিণত হয়েছে হলের কিছুটা অংশ। কিছুটা জায়গা দখল করেছে একজন চায়ের দোকানদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে ত্রিমোহিনী হাটের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। জেলা প্রশাসন প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কমিউনিটি হল তৈরির কাজে হাত লাগায়। বিএডিপি ফান্ড থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু বাধ সাধে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা। নির্মাণকাজ শেষ হয়ে বছর ঘুরলেও অন্ধকারেই ছিল এই কমিউনিটি হল। দীর্ঘদিন টালবাহানার পর পঞ্চায়েত সমিতির তরফে ওই হলে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়। কিন্তু হঠাৎই থমকে যায় কমিউনিটি হল প্রকল্পের কাজ। এর জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসাযী বলেন, বছর দেড়েক আগে কমিউনিটি হলের জায়গায় তৎকালীন স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা নিজের প্রভাব খাটিয়ে এখানে একটি চায়ের দোকান বসায়। যার জেরে অনেকটা জায়গা দখল হয়ে যায়। তখন থেকেই কমিউনিটি হলের জায়গা নিয়ে সমস্যার শুরু। সেই ঘটনার পর দেখা যায়, কমিউনিটি হলের দিকে প্রশাসনের কোনো নজর নেই। ছোটো জায়গার মধ্যে চরম সংকটে বসছে অস্থায়ী দুধ বাজার।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা অমিত মহন্ত বলেন, তিন বছর ধরে তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে হলটি। কাজ শেষ হওয়ার অনেক পরে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলিরও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নেই। আরেক বাসিন্দা সুশীল দাস বলেন, হলটি দ্রুত চালু করার ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। কমিউনিটি হলের জায়গা দখল করে বসছে চায়ের দোকান। কমিউনিটি হলটি চালু হলে আশেপাশের লোকজনের অনেক সুবিধা হবে। এ বিষয়ে হিলির বিডিও বলেন, ত্রিমোহিনী হাটের কমিউনিটি হল নিয়ে সমস্যার ব্যাপারটি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব। তারপরেই হলটি তাড়াতাড়ি চালু করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারব। আশা করছি, খুব শীঘ্রই প্রশাসনের তরফে জনসাধারণের জন্য হলটি খুলে দেওয়া যাবে।

হিলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভংকর মাহাত বলেন, কমিউনিটি হলটিতে বিদ্যুৎ পরিসেবা যথেষ্ট নেই। সঠিক উপায়ে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবেই সম্পূর্ণভাবে চালু করা যাচ্ছে না হলটি। স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ করেনি গ্রাম পঞ্চায়েত। সম্ভবত কোনো দোকান থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে হলে অস্থায়ীভাবে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমরা পঞ্চায়েত সমিতির তরফে কমিউনিটি হলটি নির্দিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে ইতিমধ্যেই হস্তান্তর করেছি। ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেফালি বর্মন জানান, ওই হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমস্যা আছে। আমরা ওই হল নিয়ে সভাও করেছি। আগামী মাসের মধ্যেই হলটি জনসাধারণের জন্য খুলে দিতে পারব। কমিউনিটি হলের জায়গায় চায়ে দোকানের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ব্যাপারটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।