চিতাবাঘের হানায় জখম মহিলা, কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শ্রমিকদের

63

নকশালবাড়ি: বিজয়নগর চা বাগানে চিতাবাঘের হানায় জখম হয়েছেন এক মহিলা। অভিযোগ, বনদপ্তরকে বহুবার চিতাবাঘ ধরতে চিঠি দেওয়া হলেও কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদে শুক্রবার টুকরিয়া ঝাড় বনাঞ্চলের সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভে শামিল হন শ্রমিকরা। এদিন নকশালবাড়ি ব্লকের হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিজয়নগর চা বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট করেন। শ্রমিকরা ওই মহিলার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ, দ্রুত খাঁচা পেতে বাঘটিকে ধরা এবং চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও বনদপ্তরকে লিখিত সহকারে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার দাবিতে কর্মবিরতি করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। টুকরিয়া ঝাড় ফরেস্ট রেঞ্জের রেঞ্জার টিটি ভুটিয়া জানান, দ্রুত খাঁচা পাতা হবে। এলাকা ঠিকমতো দেখে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেই তাঁরা কাজে যোগ দেবেন। এদিন তাঁর আশ্বাসের পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।

দীর্ঘ এক মাস যাবৎ চিতাবাঘের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসে চিতাবাঘের হানায় বিজয়নগর চা বাগানের চারজন মহিলা আক্রান্ত হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু বনদপ্তর ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় এলাকার সকলেই আতঙ্কে রয়েছেন। গতকাল বিজয়নগর চা বাগানের ৩১ নম্বর সেকশনে পাতা তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন অমিতা সুব্বা। চিতাবাঘটি বাগানের নালা থেকে বেরিয়ে তাঁর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। আশেপাশের শ্রমিকরা চিৎকার করে চিতাবাঘটিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। জখম অবস্থায় মহিলাকে নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করে। শেষে মহিলাকে মাথার অস্ত্রোপচারের জন্য শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তথা এলাকার বিদায়ী পঞ্চায়েত সদস্য সিপিএমের তুফান মল্লিক জানান, ডিএফওকে বহুবার এলাকায় চিতাবাঘটিকে ধরার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও কেউ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে এখন ভয়ে কেউ বাগানে কাজ করতে যেতে চাইছে না। দ্রুত কোনও ব্যবস্থা না হলে তাঁরা বাগানের কাজ বন্ধ করে আন্দোলনের পথে নামবেন। অন্যদিকে, শ্রমিক নেতা রথীন মুখোপাধ্যায় জানান, দ্রুত বন দপ্তরের ঘুম না ভাঙলে শ্রমিকরা চিতাবাঘটি মেরে ফেলবে। এদিন শ্রমিকরা দপ্তরে এসে বনকর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টুকরিয়া ঝাড় বনাঞ্চল দপ্তরে পৌঁছায় নকশালবাড়ি থানার পুলিশ।