লালার নমুনা পরীক্ষায় অনীহা চা শ্রমিকদের, কেন জানুন

98

রাঙ্গালিবাজনা: চোখের সামনে একের পর এক মৃত্যু দেখেও লালার নমুনা পরীক্ষা এড়াচ্ছেন অনেকেই। আবার অনেকে পরীক্ষার নাম শুনেই আঁতকে উঠছেন। কেউ কেউ তো লালার নমুনা পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন এমন সময়ে, যখন অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি অনীহা দেখা যাচ্ছে  চা বাগান শ্রমিকদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার থেকে মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্বাস্থ্য ও সচেতনতা শিবির শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক কমিটি। বান্দাপানি চা বাগানে শিবির হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সঞ্জয় লামা, ব্লক সাধারণ সম্পাদক নবীন শর্মা, ব্লক যুব সভাপতি বিশাল গুরুং সহ অন্যরা। যদিও গতকাল ওই স্বাস্থ্য ও সচেতনতা শিবির থেকে দূরে দূরেই ছিলেন স্থানীয়রা।

নমুনা পরীক্ষা নিয়ে যে এখনও অনেকেরই অনীহা রয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাজিদ আলম। যদিও লালার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে চা বাগানের শ্রমিকদের অনীহার পেছনে বেশ কিছু কারণও রয়েছে।

- Advertisement -

একবার করোনায় সংক্রামিত হলে কাজে যাওয়া হয় না ১৭ দিন। ফলে মজুরি কাটা যায়। সেটাও অনীহার কারণ। চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সদস্য উত্তম সাহার বক্তব্য, যদি কেউ প্রাপ্য ছুটি আগেই ভোগ করে ফেলেন তবে করোনা হোক বা অন্য কোনও কারণ, কাজে না গেলে বেতন কাটা যায়। এই ভয়ে চা বাগানের শ্রমিকরা নমুনা পরীক্ষায় রাজি হচ্ছেন না।

ডিবিআইটিপিএর সচিব রামঅবতার শর্মা অবশ্য জানান, শ্রমিকরা সিক লিভ বা অসুস্থতা বাবদ বছরে ১৪ দিন সবেতন ছুটি পান। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আলাদাভাবে সবেতন ছুটি ভোগ করার ব্যাপারে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। মাদারিহাটের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ‘এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে প্রচারাভিযান চলছে।‘