১০০ দিনের কাজে এবার যুক্ত হবেন চা শ্রমিকরাও

111

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : করোনার কোপ এড়াতে চা বাগানে ৫০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে কাজের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের এই নির্দেশে চা শ্রমিকরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। রোজগার কমে যাওয়ায় অনেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। কিন্তু এই প্রবণতা বজায় থাকলে চা শিল্প সমস্যায় পড়বে। বিশেষ করে এখন চায়ের ভরা মরশুম চলছে। শ্রমিক সংকট গোটা শিল্পে অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিতে পারে। সমস্যা মেটাতে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন চা শ্রমিকদের একটি বড় অংশকে ১০০ দিনের কাজে যুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন বাগানে বিশেষ শিবির করে এই শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৭৫ হাজার চা শ্রমিককে ১০০ দিনের কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আঁচ করে বাগানে কাজের জন্য শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হবে বলেই চা শিল্পপতিরা আশা করছেন।

জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, চা শ্রমিকদের রোজগার বাড়ানোর জন্য ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে তাঁদের স্থানীয় পঞ্চায়েতের অধীনে মাটি কাটা, পুকুর কাটা, সেচনালা সংস্কার, রাস্তা নির্মাণ, প্ল্যান্টেশনের মতো কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। বাগানে বাগানে শিবির করে আমরা ইতিমধ্যেই বহু শ্রমিকের নাম পেয়েছি। তাঁদের এসমস্ত কাজে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের দেখে উদ্দীপ্ত হয়ে অন্যরা একাজে যুক্ত হতে চাইছেন। বন্ধ রায়পুর চা বাগানের শ্রমিক তথা পাতকাটা পঞ্চায়েতের প্রধান পদে থাকা প্রধান হেমব্রম বলছেন, বাগান বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। ফাওলই, সরকারি র‌্যাশন ব্যবস্থায় তাঁদের সমস্যা মিটছে না। জেলা প্রশাসন তাঁদের ১০০ দিনের কাজে যুক্ত করায় চা শ্রমিকদের সুবিধা হবে। চা মালিকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আশা করি, চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি চিন্তা করে রাজ্য সরকার বাগানে আরও বেশি শ্রমিক দিয়ে কাজের অনুমতি দেবে।

- Advertisement -

চা উত্তরের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অন্য পাঁচটি শিল্পের মতো এই শিল্পও রীতিমতো বিপর্যস্ত। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশীয় বাজারে চায়ে দাম পড়েছে। তার ওপর করোনার কোপ এড়াতে ৫০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে রাজ্য সরকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মহলের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বর্তমানে সেকেন্ড ফ্লাশের মরশুমে বাগানগুলিতে পাতা তোলার কাজ চলছে। কিন্তু অর্ধেক সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ চালাতে গিয়ে বাগানগুলি সমস্যায় পড়ছে। অন্যদিকে, যে সমস্ত শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন না তাঁরাও খুবই সমস্যায় রয়েছেন। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার চালাতে তাঁদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। অন্য কোনও উপায় না থাকায় তাঁরা ভিনরাজ্যে যাওয়া শুরু করেছেন। রেডব্যাংক, রায়পুর চা বাগানের শ্রমিকদের একটি বড় অংশই রাজ্যে কার্যত লকডাউন শুরুর আগেই অন্যত্র পাড়ি দেন। এদিকে, এই প্রবণতা বজায় থাকলে চা শিল্প মার খেতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছে।

জেলায় ১০০ দিনের কাজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা শাসক সমীরণ মণ্ডল (জেলা পরিষদ) বলেন, জেলা শাসকের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাগানগুলিতে শিবির করা হচ্ছে। জেলার সাতটি ব্লকের বিভিন্ন বাগানে শিবির চলছে। প্রচুর চা শ্রমিক ইতিমধ্যেই ১০০ দিনের কাজে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের দেখাদেখি আরও অনেকে এই কাজে যুক্ত হতে চাইছেন। ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে তাঁদের রোজগারের ব্যবস্থা করে দিতেও আমরা উদ্যোগী হয়েছি।