সস্তার স্যানিটাইজার, মাস্ক বানিয়ে হিরো মনোজ-মিহির

426

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : স্বল্পমূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক তৈরি করে রোল মডেল হয়ে উঠেছেন মাথাভাঙ্গার রসায়নের শিক্ষক মনোজ দে ও কাপড়ের ব্যাগ তৈরির কারখানার মালিক মিহির সাহা। তাঁদের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাথাভাঙ্গার বাসিন্দাদের কাছে। প্রশংসা মিলেছে প্রশাসনেরও। মাথাভাঙ্গার মহকুমা শাসক জিতিন যাদব বলেন, করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা ও সর্তকতা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমি চাই মনোজ-মিহিরের মতো আরও অনেকে সমাজের কাজে এভাবেই এগিয়ে আসুন।

করোনা আতঙ্ক আছড়ে পড়েছে এদেশে। আর এর জেরে বাজারে মিলছে না হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক। পরিস্থিতি যে আরও সঙ্গিন হবে তা বিলক্ষণ বুঝেছিলেন মাথাভাঙ্গা মহকুমা শাসক জিতিন যাদব। আর তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বল্পমূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পৌঁছে দেওযা যায় কিনা তা ভাবার দায়িত্ব দেন কুক্তিকাটা ধরণীকান্ত হাইস্কুলের রসায়নের শিক্ষক মনোজ দে-কে। একইভাবে স্বল্পমূল্যে মাস্ক তৈরির জন্য কাপড়ের ব্যাগ কারখানার মালিক মিহির সাহার সঙ্গে কথা বলেন। মহকুমা শাসকের কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়ে রসায়নের শিক্ষক মনোজ দে তৈরি করেন স্বল্পমূল্যের হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মিহির সাহা তার কারখানায় তৈরি করেন স্বল্পমূল্যের মাস্ক। মনোজ দের কথায়, ইন্টারনেট ও ইউটিউব ঘেঁটে বিভিন্ন ইনগ্রেডিয়েন্সের কম্পোজিশন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করি। এরপর মহকুমা শাসকের কাছে সেটি নিয়ে যাই। মহকুমা শাসক বিষয়টি নিয়ে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের সুপার ও অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সেটির কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। মনোজ দে জানান, তাঁর তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৬৫ শতাংশ ডক্টর স্পিরিট (আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল), অ্যালোভেরা জেল ও কয়েক ফোঁটা ডেটল বা স্যাভলন রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরিতে খরচ পড়েছে মাত্র ২০ টাকা। অথচ সমপরিমাণ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বাজার মূল্য ৮০ টাকা। একইভাবে মিহির সাহা মহকুমা শাসকের পরামর্শে ৫ টাকায় মাস্ক তৈরি করে নজর কেড়েছেন। মনোজ দের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মিহির সাহার তৈরি মাস্ক শহরের বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকানে সরবরাহ করা হয়েছে। মনোজ দের ছেলের নামে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের নামকরণ করা হয়েছে গোলগোল হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মিহির সাহার নামে মাস্কের নামকরণ করা হয়েছে মিহির মাস্ক। দুটি নামকরণই অবশ্য করেছেন মহকুমা শাসক জিতিন যাদব।

- Advertisement -