অবসরের পর বিনা পারিশ্রমিকে স্কুলে পড়াচ্ছেন মাস্টারমশাই

493

ফুলবাড়ি : স্রেফ ভালো লাগা থেকে অবসর নেওয়ার পরও ৬৭ বছর বয়সে বিনা পয়সায় পড়িয়ে চলেছেন কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের ফুলবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক তপন অধিকারী। ছুটির দিন বাদে প্রায় প্রতিদিন শৌলমারি জুনিয়ার হাইস্কুলে আসেন তপনবাবু। পড়ুয়াদের ক্লাস নেন।

শীতলকুচি ব্লকের ডাকঘরা এলাকার বাসিন্দা তপন অধিকারী ১৯৮০ সালে ফুলবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে সহশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০১২ সালে তিনি চাকরি জীবন থেকে অবসর নেন। তারপর আবার ২০১৩ সালে অতিথি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বালাসুন্দর জুনিয়ার হাইস্কুলে। ওই বিদ্যালয়ে তিনি বছর খানেকের মতো সময় টিচার ইন চার্জের  দাযিত্ব সামলান। ২০১৪ সালে অতিথি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বড় শৌলমারি জুনিয়ার হাইস্কুলে। ২০১৭ সালে তিনি অতিথি শিক্ষকের পদ থেকেও অবসর নেন। তারপর থেকেই বড় শৌলমারি জুনিয়ার হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়াচ্ছেন তপন অধিকারী। তপনবাবু ছুটির

- Advertisement -

দিন বাদে প্রায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসেন। রুটিন অনুয়াযী বিভিন্ন শ্রেণিতে ইংরেজি ও ইতিহাস পড়ান। পাশাপাশি গান-বাজনাও শেখান। তাঁর অনুপ্রেরণায় বিদ্যালয়ে প্রকাশিত হয় একটি দেওয়াল পত্রিকা। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুর মতো। তপনবাবু বলেন, আমার চাকরি জীবন শেষ হয়েে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর য়ে ইচ্ছা ও ভালোলাগা, সেটা আমার শেষ হয়নি। তাই নিয়মিত স্কুলে আসি। ছাত্রছাত্রীদেরকে ক্লাসে পড়াই। য়তদিন পারব ছাত্রছাত্রীদেরকে এভাবে পড়িয়ে য়াব। তপনবাবু সাইকেল ছাড়া অন্য কিছু চালাতে পারেন না। তাই এখনও ফালাকাটার মাস্টারপাড়ার বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। তবে তপনবাবু শুধু বিনা পয়সায় বিদ্যালয়ে পড়ান না, তাঁর ফালাকাটার বাড়িতেও তিনি বিভিন্ন ক্লাসের বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীকে বিনা পয়সায় শিক্ষাদান করেন। তাঁর স্ত্রী মঞ্জুশ্রী দেঅধিকারীও বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীদের বিনা পয়সায় পড়ান। বড় শৌলমারি জুনিয়ার হাইস্কুলের টিচার ইন চার্জ সব্যসাচী সরকার বলেন, তপনবাবু আমাদের গর্ব। অবসর নেওয়ার পরও তিনি একইভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেন।