পেট চালাতে ইলেকট্রিশিয়ান হয়েছেন পার্শ্বশিক্ষক

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের পথে হেঁটেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বন্ধ হয়েছে স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। জমায়েত রুখতে টিউশন, কোচিং সেন্টারগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনই একজন রায়গঞ্জের গৌরী অঞ্চলের হাতিয়া হাইস্কুলের পার্শ্বশিক্ষক ঠাকুরপ্রসাদ রায়। রোজগারের আশায় ঠাকুরপ্রসাদবাবু বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ শুরু করেছেন।

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ঠাকুরপ্রসাদবাবু লকডাউনের আগে স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি রায়গঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় অ্যাথলেটিক্সের কোচিং করাতেন। গ্রামেগঞ্জে প্রাইভেট টিউশনও করতেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণ রুখতে সরকার লকডাউন ঘোষণা করতেই টিউশনগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্ধ হয়েছে অ্যাথলেটিক্সের কোচিংও। স্কুল থেকে তিনি এগারো হাজার টাকা পান। কিন্তু সেই টাকায় সংসার চলে না। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ঠাকুরপ্রসাদবাবু ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রির কাজ বেছে নিয়েছেন। ঠাকুরপ্রসাদবাবু বলেন, আমার বাড়ি রায়গঞ্জ ব্লকের বীরঘই অঞ্চলের মহাদেবপুরে। কিন্তু এখন কাজের জন্য সাইকেল নিয়ে রোজ সকালে বেরিয়ে পড়ছি। সারাদিন কাজকর্ম করে সন্ধ্যেবেলায় বাড়ি ফিরি। কোনওদিন ১৫০ টাকা আবার ভাগ্য ভালো থাকলে কোনওদিন ২০০ টাকাও রোজগার হয়। নির্দিষ্ট কোনও রোজগার নেই।

- Advertisement -

তিনি বলেন, আগে যখন টিউশন করাতাম তখন গরিব ছেলেমেয়েছের থেকে কোনও পারিশ্রমিক নিতাম না। প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা রোজগার করতাম। আমার সংসারে অভাব আছে। মাস গেলে যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। তাই ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রির কাজ শুরু করেছি। তবে এই পেশায় এখনও অনেককিছুই শেখার আছে। কিন্তু ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছি। এটাই যা ভরসা। কী ধরনের কাজ করেন? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখনও বড় কোনও কাজ করতে পারি না। ছোটখাটো রিপিয়ারিংয়ে কাজ করি। এই যেমন ধরুন কারও বাড়িতে বাল্ব লাগাতে হবে বা ফিউজ কেটে গিয়েছে, এইসব ছোটখাটো কাজের খোঁজ পেলে সেই কাজ করে দিই।

পার্শ্বশিক্ষকদের নিয়ে রাজ্য সরকারের উদাসীনতার প্রতি তাঁর ক্ষোভ রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার আমাদের জন্য কিছুই করল না। অথচ স্থায়ীশিক্ষকদের মতো সব কাজ আমাদেরকেও করতে হয়। জানি না আমাদের এই কষ্ট আদৌ মিটবে কিনা। পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের জেলা নেতা নীতিশ সরকার বলেন, ঠাকুরপ্রসাদের মতো অনেক পার্শ্বশিক্ষকই সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। লকডাউনের জন্য আমাদের আন্দোলন খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে আমরা আমাদের দাবিতে অনড় হয়ে আছি। হাতিয়া হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক অনিরুদ্ধ সিন্হা বলেন, ঠাকুরপ্রসাদবাবু একজন আদর্শ ক্রীড়া শিক্ষক। এটা সত্যি যে পার্শ্বশিক্ষকরা যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চলে না। ওঁর পরিবারে উনিই একমাত্র রোজগেরে। তাই বাধ্য হয়ে উনি ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করছেন।