পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করতে এবার দুয়ারে শিক্ষক

91

রায়গঞ্জ: করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুবাদে পড়ুয়াদের কেউ কাজের জন্য পাড়ি দিয়েছে ভিন রাজ্যে কেউবা অন্য কাজ খুঁজে নিয়েছে। উত্তর দিনাজপুরে এই সমস্ত পড়ুয়াদের ফের স্কুলমুখী করাই এখন প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। রহটপুর হাই মাদ্রাসার একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলাম। মাদ্রাসা খুলে গিয়েছে। কিন্তু সে এখনও কাজের জন্য পাঞ্জাবে রয়েছে। তার যুক্তি, বাবা আজিমুল হক দিনমজুর। বাড়িতে অভাব। তাই করোনার সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় পাঞ্জাবে একটি কারখানায় কাজ পেয়ে চলে যায় সে। আজিমুল হক অবশ্য জানান, পড়াশোনার জন্য তিনি ছেলেকে বাড়ি ফিরতে বলেছেন। রসাখোয়া হাইস্কুলের এক ছাত্রী জানায়, তার বাবা অসুস্থ। মা বিড়ি বাঁধার কাজ করেন। তাই বাড়তি আয়ের জন্য সে নিজেও বিড়ি বেঁধে মাকে সাহায্য করছে। জেলার এইসব এলাকায় পড়ুয়াদের হাজিরার হার কম। জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রেই বলা হচ্ছে, সেটা ৩০-৩৫ শতাংশের বেশি নয়। এদিকে হেমতাবাদ ব্লকের ভরতপুর হাইস্কুল, সমসপুর হাইস্কুল, দেহচি হাইস্কুল এবং রায়গঞ্জ ব্লকের ভাটোল সেবা গ্রাম হাইস্কুল, ভগিলতা হাইস্কুল বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। এই সমস্ত স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কম আসায় তাদেরকে স্কুলমুখী করার জন্য যাবতীয় উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

হেমতাবাদ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নীলমণি সরকার জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন মারফত জানানো হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। রহটপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাহিদুর রহমানের বক্তব্য, প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের আবার শিক্ষার আঙিনায় টেনে আনার বিষয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝানো হবে। জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তর নির্দেশ দিয়েছে, রোজ পড়ুয়াদের উপস্থিতির সংখ্যা শিক্ষা দপ্তরকে জানাতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এই জেলায় ফের পড়াশোনার অভ্যাস তৈরি করতে যে সময় লাগবে তা অবশ্য মেনে নিচ্ছেন অনেকেই।