পড়ুয়াদের দুয়ারে গিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন মাস্টারমশাই

93

গৌতম দাস, তুফানগঞ্জ : করোনার কারণে দীর্ঘসময় স্কুল বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস চললেও স্মার্টফোনের অভাবে গ্রামীণ এলাকার দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। তাই পিছিয়ে পড়া ওই পড়ুয়াদের কথা ভেবে তুফানগঞ্জ মহকুমার ধলপল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মুগাভোগ হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক প্রদীপ ঝা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগে খুশি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা।

গ্রামীণ এলাকার ওই স্কুলের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী দরিদ্র পরিবারের। স্কুলের পঠনপাঠনের উপর নির্ভর করেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পড়ুয়াদের ফলাফল বরাবর ভালো হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলো, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদি বিষয়ে এগিয়ে রয়েছে স্কুলটি। প্রদীপবাবু কোচবিহারের এবিএন শীল গভর্নমেন্ট কলেজের আংশিক সময়ে অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৭ সালের শেষে তিনি মুগাভোগ হাইস্কুলে যোগ দেন। ২০১৪-২০১৯ স্কুলে টিচার ইন চার্জের দায়িত্বে থাকাকালীন স্কুলটি  বেস্ট পারফর্মিং স্কুল ইন ডিস্ট্রিক্ট ২০১৮ সহ নানা পুরস্কার পায়। প্রদীপবাবু নিজেও শিক্ষকতার জন্য একাধিক সম্মান লাভ করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি ইনস্পিরিশনাল স্কুল লিডার পুরস্কার পান। ওই বছরই ডায়নামিক টিচার সম্মানে সম্মানিত হন। ২০২০ সালে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে জেলা শাসক তাঁকে এমিনেন্ট সেকেন্ডারি টিচার অফ কোচবিহার ডিস্ট্রিক্ট পুরস্কারে পুরস্কৃত করেন।

- Advertisement -

প্রদীপবাবু বলেন, বেশিরভাগ পড়ুয়ার স্মার্টফোন না থাকায় তারা অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে না। তাই পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তাদের পড়াচ্ছি। পড়ুয়াদের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারও দেওয়া হচ্ছে। দশম শ্রেণির ছাত্রী মন্দিরা সরকার ও দ্বাদশের চন্দনা সরকার জানায়, পয়সার অভাবে স্মার্টফোন কিনে অনলাইন ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু প্রদীপবাবুর উদ্যোগে তাদের পড়াশোনা থেমে যায়নি। অভিভাবক গৌরাঙ্গ বর্মন বলেন, মাস্টারমশাই বরাবরই ছাত্রছাত্রীদের কথা ভাবেন। এই করোনা পরিস্থিতিতেও সুদূর দিনহাটা মহকুমার গোসানিমারি থেকে মুগাভোগ গ্রামে এসে ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছেন। যতদিন না স্কুল খুলছে, ততদিন এভাবেই পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে পড়াবেন বলে জানান প্রদীপবাবু।