রায়গঞ্জ ১৪ নভেম্বরঃ স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল শিক্ষক স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের। ২০০৫ সালে তার স্ত্রীকে খুন করে দেহের  টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয় শহরের একটি নামী স্কুলের শিক্ষক মহিদুর রহমান। এতদিন ধরে চলা এই মামলার শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। এদিন মহিদুর, মা মরিয়াম বেওয়া ও দিদি হানেয়া বেগমককে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল রায়গঞ্জ জেলা আদালতের বিচারক বিনয় কুমার প্রসাদ। প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৫ বছরের জেলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান, সরকারি পক্ষের আইনজীবী তরুণ সরকার।
২০০৫ সালে কালিয়াগঞ্জ থানার পুড়িয়ামহেশপুরের বাসিন্দা সাবিনা বেগমের সঙ্গে ইটাহার থানার কেউটাল গ্রামের বাসিন্দা মহিদুর আলমের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের চার মাসের মাথায় ২৩ সেপ্টেম্বর রায়গঞ্জ শহরের স্কুল লাগোয়া ভাড়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সাবিনা। এরপর ২৪ তারিখে রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জ থানায় নিখোঁজের মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহিদুর আলম। ২৬ তারিখে কালিয়াগঞ্জের কালুডাঙ্গা এলাকায় একটি জলাশয় থেকে সাবানা বেগমের মাথা উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। তারপর এক এক করে সাবিনার একাধিক খন্ড-বিখন্ড দেহ উদ্ধার হয়। এরপরেই সাবিনার বাবা হাকিমুদ্দিন সরকার কালিয়াগঞ্জ থানায় জামাই সহ মেয়ের শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে। সেই সময় অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে জামিনে ছাড়া পান। জেল থেকে ফিরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত শিক্ষকের বাবার।