বন্ধ স্কুল, প্রতিবাদে বাজারেই স্কুল চালালেন শিক্ষক বিপ্লববাবু

152

রায়গঞ্জ: করোনা অতিমারির জেরে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে তালা ঝুলছে সব স্কুলেই। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন পড়াশোনায় জোর দিয়েছে রাজ্য৷ যদিও গ্রামাঞ্চলের সিংহভাগ পড়ুয়াই এই সুবিধে থেকে বঞ্চিত৷ এমতবস্থায় একদিকে যেমন পড়াশোনার ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা পিছিয়ে পড়ছে অন্যদিকে বাড়ছে স্কুলছুটের সংখ্যাও। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার একদল পড়ুয়াকে নিয়ে বাজার এলাকায় ক্লাস নিলেন শিক্ষক বিপ্লব কর্মকার। স্কুল খোলার দাবিতে শিক্ষকের এহেন প্রতিবাদ আলোড়ন ফেলেছে শিক্ষামহলে।

করোনা অতিমারিতে বন্ধ স্কুল। যদিও বাজার-হাট খোলা। এরই প্রতিবাদ জানিয়ে ভারত জাগরন আন্দোলন সংগঠনের তরফে রায়গঞ্জ স্টেশন বাজার এলাকায় প্রতীকী বিদ্যালয়ের আয়োজন হয়। এবিষয়ে, বিপ্লববাবুর বক্তব্য,  বর্তমানে দেশজুড়ে বাজার খোলা, অথচ স্কুল বন্ধ, তাই আমরা বাজারেই প্রতীকী স্কুল চালু করছি। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় বিগত ১৫ থেকে ১৬ মাস ধরে বন্ধ। ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আঙিনা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে এই ভাইরাস যাবে না, ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই থাকতে হবে। বাজার-হাট, দোকান সব খোলা, অথচ একমাত্র বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন। তাঁর কথায়,সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে প্রান্তিকস্তরের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। অনলাইনে ক্লাস করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই এবং পরিকাঠামোও নেই। এমন চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ একেবারেই অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই আমাদের দাবি করোনা বিধি মেনে, যে কোনও একটি সুনির্দিষ্ট উপায়ে বিদ্যালয় খোলার বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন।

- Advertisement -

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক) দীপক কুমার ভক্ত বলেন, ‘করোনা অতিমারির কারনে সরকার তো আমাদের ভালোর জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের এতটা উতলা হওয়া উচিত নয়। বাজারের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এধরনের আন্দোলন ঠিক নয়।’