পড়ুয়াদের বাড়িতে মডেল টাস্ক পৌঁছে দিচ্ছেন শিক্ষকরা

ফালাকাটা : কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জন্য সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে স্কুলে আসতে পারছে না পড়ুয়ারা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের পড়াশোনার ব্যাপারে সহযোগিতা করছেন। অ্যান্ড্রয়েড ফোন না থাকায় অনেক ছাত্রছাত্রী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেজন্য ফালাকাটার পারঙ্গেরপার শিশুকল্যাণ উচ্চবিদ্যালয়ের তরফে ওই স্কুলের পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষা দপ্তরের মডেল টাস্ক দিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। এতে খুশি অভিভাবকরাও।

লকডাউনে পড়ুয়াদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে রাজ্য সরকার বাংলার শিক্ষা পোর্টাল চালু করেছে। সেই পোর্টালের মাধ্যমে ফালাকাটার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা পড়ুয়াদের পড়াশোনার ব্যাপারে গাইড করছেন। পাশাপাশি, শ্রেণিভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও খুলেছেন শিক্ষকরা। কিন্তু বেশ কিছু পড়ুয়ার স্মার্টফোন না থাকায় তারা ওই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তাই পারঙ্গেরপার শিশুকল্যাণ উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে রাস্তায় বের হচ্ছেন। মডেল টাস্ক দেওয়ার পাশাপাশি দুঃস্থ পড়ুয়াদের বাড়ি গিয়ে তাঁরা অন্য শিক্ষাসামগ্রীও দান করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি মাস্ক পরে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছেন। এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ফালাকাটার শিক্ষানুরাগী মহল। ওই স্কুলের শিক্ষক শ্রীবাস সরকার, সুশান্ত রায় ও খাদিমুল ইসলাম ইতিমধ্যে খলিসামারি, পারঙ্গেরপার, স্টেশনপাড়া, এমএ কলোনিতে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ির সামনে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা দুঃস্থ পড়ুয়াদের খাতা, কলম ও চকোলেটের পাশাপাশি শিক্ষা দপ্তর থেকে পাঠানো মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক দিয়েছেন।

- Advertisement -

শিক্ষকদের সহায়তা ও পরামর্শ পেয়ে খুশি অভিজিৎ ঘোষ, পিয়ালি বর্মন, সঙ্গীতা বর্মন, সবিতা দাস, ইরফান মিয়াঁর মতো পড়ুয়ারা। তারা জানাল, এতদিন অনলাইনে পড়াশোনা চালু হলেও তাদের বাড়িতে কারও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছিল। অন্যরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারলেও তারা দিনদিন পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পালটেছে। শিক্ষকরা বাড়িতে এসে মডেল টাস্ক পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন। পড়াশোনা কেমন চলছে, সে বিষয়ে তাঁরা খোঁজখবরও নিচ্ছেন। শিক্ষকদের এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরাও। তাঁরা অনেকেই জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে ছেলেমেয়েছের পড়াশোনা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা তাঁদের সেই উদ্বেগ দূর করে দিতে পেরেছেন। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মন ছিল না। এখন বাড়িতে মডেল টাস্ক পৌঁছে য়৩ওয়ায় তারা পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকছে।

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডঃ প্রবীর রায়চৌধুরী বলেন, অভিভাবকদের স্মার্টফোন না থাকায় একাংশ পড়ুয়াকে শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপারে সহায়তা করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই পড়ুয়াদের পড়াশোনার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়। তবে স্কুলের বেশিরভাগ পড়ুয়া ইতিমধ্যে বাংলার শিক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু করেছে।