স্কুলছুটের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষকরা

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : লকডাউন এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলি। এর কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তারা জানিয়েছে, করোনার কারণে আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ার বহু পরিবার স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরও কাজে নামিয়ে দিচ্ছে। আর্থিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ছেলেমেয়ে রোজগারের পথ বেছে নিয়েছে। এই কারণে স্কুল খুললেও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমবে বলেই মনে করছে সংগঠনগুলি। শিক্ষা দপ্তরের চেষ্টায় গত দুএকবছরে স্কুলছুটের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও আগামীদিনে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, সেই বিষয়ে উদ্বিগ্ন সবাই।

রাজ্যের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির মধ্যে অন্যতম জলপাইগুড়ি। জেলার ৭টি ব্লকে ২ হাজারের বেশি স্কুল রয়েছে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৫৬ হাজার। স্কুলছুটের সংখ্যা বেশি থাকার কারণে গত দুই বছর একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল শিক্ষা দপ্তর। তাদের দাবি, স্কুলছুটের সংখ্যাও অনেকটাই কমিয়ে আনা গিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে স্কুলছুটের সংখ্যা ৪০০ এবং মাধ্যমিকস্তরে ১৬০০-র মতো ছিল বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এই জেলায় চা বাগান, বনবস্তিগুলিতে প্রচুর মানুষের বসবাস। লকডাউনের প্রভাব বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে। চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলিতে সন্তানদের প্রতি তেমন নজর কোনও দিনই লক্ষ করা যায়নি। ফলে এই করোনা পরিস্থিতিতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন চা শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা। জলপাইগুড়ি জেলার শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, জেলা শিক্ষা দপ্তরের তরফে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে পঠনপাঠন মাধ্যমে জারি রাখলেও, সেই জায়গা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হচ্ছে এইসব পরিবারের সন্তানরা।

- Advertisement -

দরিদ্র পরিবারগুলিতে স্মার্টফোন না থাকায় অনলাইন ক্লাসের সুবিধা নিতে পারেনি তারা। এমনকি কিছু কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকমতো পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা। তিনি বলেন, এই সমস্যার কারণে লকডাউনের মাঝে ওই ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় অংশ পুরোপুরি পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত। চা শ্রমিকরা পেটের তাগিদে সকালবেলা হলেই কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যান, তারপর বিকেলে ফেরেন। এর মধ্যে তাঁদের সন্তানদের দেখাশোনা করা হয়ে ওঠে না। আবার বনবস্তির ছাত্রছাত্রীদের অবস্থাও একই। করোনা এবং লকডাউনের ফলে আর্থিক দিক থেকে সমস্যায় পড়া ওই এলাকার বহু পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদেরও বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে দিয়ে থাকবে। যে কারণে স্কুল খুললে ওই সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি নির্মল সরকার বলেন, স্কুলছুটের একটা আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তবে স্কুল না খোলা পর্যন্ত সেটা পরিষ্কার হবে না। যদি দেখা যায় স্কুলছুটের সংখ্যা বেড়েছে, তাহলে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেব, কেন স্কুলে আসছে না। সেই ছাত্রকে স্কুলে আনার চেষ্টা করব। জেলা শিক্ষা আধিকারিক মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, আশঙ্কা একটা থেকেই যায়। কিন্তু স্কুল না খোলা পর্যন্ত বোঝা যাবে না স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ল না কমল। তবে স্কুলছুট কমাতে আমরা যেভাবে কাজ করছিলাম, সেভাবেই কাজ জারি থাকবে।