পড়ুয়াদের বই আনতে ২৫ কিমি যান ৪৬টি স্কুলের শিক্ষকরা

95
এউ জমিতেই সার্কেল অফিস তৈরি হওয়ার কথা ছিল

কৌশিক শীল, বানারহাট : ৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে ২০১৪ সালের ১ অগাস্ট ধূপগুড়ি ৪ নম্বর সার্কেলটি গঠিত হয়। বর্তমানে এই সার্কেলে ৪৬টি বিদ্যালয় রয়েছে। আগে এই বিদ্যালয়গুলি ধূপগুড়ি পশ্চিম সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু সেই সার্কেলের অফিস গয়েরকাটায় অবস্থিত হওয়ায় সমস্যায় পড়তেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। যে কোনও কাজে ২০-২৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছোতে হত সেখানে। তাই তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বানারহাটকে কেন্দ্র করে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিকে নিয়ে তৈরি হয় ধূপগুড়ি ৪ নম্বর সার্কেল। প্রথমে জমির সমস্যা তৈরি হলেও পরে বানারহাট উচ্চবিদ্যালয় নতুন সার্কেল অফিসের জমির ব্যবস্থা করা হয়। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকও নিয়োগ করা হয়। তবে ছয় বছর পরেও এই সার্কেলের জন্য কোনও অফিস নির্মাণ করা হয়নি। ধূপগুড়ি পশ্চিম সার্কেলের অফিসেই বসছেন ধূপগুড়ি ৪ নম্বর সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক। ফলে আজও শিক্ষকদের গয়েরকাটার সার্কেল অফিসেই ছুটতে হচ্ছে।

সূত্রের খবর, বানারহাটে নতুন সার্কেল অফিস তৈরির জন্য এখনও অর্থের অনুমোদন হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বানারহাট ৪ নম্বর সার্কেল সভাপতি ইসলাম আনসারি বলেন, গত কয়েক বছরে কতবার যে সার্কেল অফিস তৈরির জন্য স্মারকলিপি দিয়েছি, তার ইয়ত্তা নেই। প্রতিটি সভায় এই বিষয়টি তুলেছি। প্রত্যেকবার আশ্বাস মিলেছে। শিক্ষকদের জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এখন এই প্রসঙ্গ উঠলে নিজেরই লজ্জা লাগে। শুধু শুনতে পাচ্ছি, টাকা আসেনি। কবে টাকা আসবে, তাও কেউ বলতে পারছেন না। এখনও স্কুলের জন্য বই আনতে, কোনও ফর্ম জমা করতে, রিটার্ন জমা সহ অন্য কাজে আমাদের ২০-২৫ কিলোমিটার ছুটতে হয়। কোনও কাজে সার্কেল অফিস গেলে একটা গোটা দিন লেগে যায়। প্রতি বছর সার্কেল অফিস থেকে স্কুলে বই নিয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র ৮০ টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ হয়। কিন্তু আমাদের এক হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ধূপগুড়ি ৪ নম্বর সার্কেলের সম্পাদক মুকেশ রজক বলেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে বহুবার এই দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, নতুন সার্কেল অফিস তৈরির কোনও ইচ্ছেই নেই প্রশাসনের।

- Advertisement -

ধূপগুড়ি ৪ নম্বর সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শেফালি ওরাওঁ বলেন, আমিও চাই দ্রুত নতুন সার্কেল অফিস তৈরি হোক। কিন্তু বিষয়টি আমার হাতে নেই। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করব না। অর্থের অনুমোদনের বিষয়টি দেখে বলতে হবে।