উপস্থিতি কম, স্কুলে আনতে পড়ুয়াদের দুয়ারে যাবেন শিক্ষকরা

76

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : পঠনপাঠন শুরুর দ্বিতীয় দিনে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়লেও বৃদ্ধির হারে সন্তুষ্ট নন মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের চা বলয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাই এবার বাকি পড়ুয়াদের বিদ্যালয়ে আনতে তাদের দুয়ারে হাজির হবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁরা জানান, দ্বিতীয় দিনেও পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার আশানুরূপ হয়নি। ফলে বুধবার থেকেই পড়ুয়াদের বাড়িতে মোবাইল ফোন মারফত যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন তাঁরা। ফোনে যোগাযোগের পরও উপস্থিতির হার না বাড়লে পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি বিশেষ অভিযান চালাবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

মাদারিহাট গার্লস হাইস্কুল সূত্রের খবর, দ্বিতীয় দিনে উপস্থিতির হার আশানুরূপভাবে বাড়েনি। তাই এবার পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত মাদারিহাট গার্লস হাইস্কুলের চারটি শ্রেণির ৩৯৪ জন পড়ুয়াদের মধ্যে মঙ্গলবার উপস্থিত ছিল ৮৫ জন। বুধবার উপস্থিতি সামান্য বেড়ে হয় ১০২ জন। এদিকে, বীরপাড়া হাইস্কুলে মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার সামান্য হলেও কমেছে বলে স্কুল সূত্রের খবর। স্কুল কর্তপক্ষ জানিয়েছে, বড়জোর এই সপ্তাহ অপেক্ষা করা হবে। এরপর পড়ুয়াদের বিদ্যালয়ে আনতে প্রযোজনে বাড়ি বাড়ি হাজির হবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আর কিছুতেই পড়ুয়াদের অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া যাবে না। বীরপাড়া হাইস্কুলে বীরপাড়া, ডিমডিমা, জয়বীরপাড়া, তাসাটি, দলগাঁও সহ বিভিন্ন চা বাগানের পড়ুয়ারা রয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রের খবর, উপস্থিতির হারে পিছিয়ে রয়েছে চা বাগানের পড়ুয়ারা। অবশ্য বুধবার বীরপাড়া গার্লস হাইস্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি দ্বিগুণ বেড়েছে। মঙ্গলবার ওই বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতি ছিল কুড়ি শতাংশের সামান্য কিছু বেশি। বুধবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওই স্কুলের কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

প্রত্যন্ত এলাকা ও চা বলয়ের পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার আশানুরূপ না বাড়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, বর্তমানে চলছে ধান কাটার মরশুম। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলির স্কুল পড়ুয়া সদস্যরাও বাড়ির বড়দের সঙ্গে কাস্তে নিয়ে ধান কাটতে হাজির হচ্ছে মাঠে। স্কুল চালুর খবরই পৌঁছায়নি তাদের কাছে। আবার চা বলয়ে সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ এখনও শিক্ষায় পিছিয়ে । পঠনপাঠন ফের কবে শুরু হবে সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন না এলাকার বড়রাও। তবে বীরপাড়ার চা বলয়ে একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের ব্যাখ্যা, অনলাইনে ক্লাস করে পড়ুয়াদের একাংশের মনে হয়েছে স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ থাকলেও তাদের খুব একটা লোকসান হয়নি। ফলে স্কুলে আসার ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত তেমন উৎসাহ দেখাচ্ছে না তারা।

অনুপস্থিতির জন্য অনেকেই ব্যক্তিগত কারণের কথাও বলেছে। মঙ্গলবার স্কুলে যায়নি দশম শ্রেণির পড়ুয়া অর্চিনা ওরাওঁ। বীরপাড়া চা বাগানের মেয়েটি বুধবার জানায়, দ্বিতীয় দিনও বীরপাড়া চা বাগানের অনেক পরিবারের পড়ুয়াই স্কুলে যায়নি। এমনকি, কবে যাওয়া শুরু করবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। শিশুবাড়ি হাইস্কুলে গোপালপুর চা বাগান থেকে শুরু করে ফালাকাটার প্রত্যন্ত কড়াইবাড়ি এলাকার পড়ুয়ারা রয়েছে।

স্কুল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ১২ শতাংশ পড়ুয়া এলেও বুধবার তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ শতাংশ। তবে তাতে সন্তুষ্ট না থেকে পরিচালন সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পড়ুয়াদের আনতে বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি লিডার বাছাই করার কাজ শুরু হবে এ সপ্তাহের শেষেই। যে এলাকায় যে সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি সেই সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে কমিউনিটি লিডার হিসেবে বাছাই করা হবে। তাঁর মাধ্যমেই পড়ুয়াদের বিদ্যালয় আনার কাজ করা হবে। এজন্য শনিবার থেকে প্রত্যেকটি এলাকায় যাবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পাশাপাশি এ ব্যাপারে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির কাছেও পড়ুয়াদের ব্যাপারে সহযোগিতা চাওয়া হবে।