দলিত হওয়ায় বন্দনার পরিবারকে নিগ্রহ

টোকিও : মধ্যযুগীয় বর্বরতা। আর তাতেই লজ্জায় মাথা হেঁট।

টোকিও অলিম্পিকে নিজেদের দুরন্ত লড়াই দিয়ে যখন সারা বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ভারতীয় মহিলা দল। তখন সেই দলের টপ স্কোরারের বাড়ির সামনে হারের উৎসব সারলেন একদল উগ্র জাতিবিদ্বেষী যুবক। এমন নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে ভারতীয় দলের তারকা বন্দনা কাটারিয়ার পরিবারের সঙ্গে।

- Advertisement -

হরিদ্বারের রোশনাবাদ অঞ্চলে বসবাস বন্দনার। অলিম্পিকে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হারের পর তাঁর বাড়ির সামনে বাজি ফাটিয়ে উৎসব করেন একদল যুবক। এমনকি বন্দনাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেন তাঁরা। কী অপরাধে এমন আচরণ? পুলিশ সূত্রে খবর, বন্দনার পরিবার দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত। তাঁকে দলে নেওয়ার কারণেই ভারতের পদকজয়ের সুবর্ণসুযোগ হাতছাড়া বলে দাবি করেছেন হামলাবাজরা। আতঙ্কিত বন্দনার পরিবার দ্বারস্থ হয় পুলিশের।

গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত ভারতীয় মহিলা হকি দলের অধিনায়ক রানি রামপালও। বিষয়টিকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এটা লজ্জাজনক ঘটনা। আমরা দেশের জন্য নিজেদের উজার করে দিই। জাতপাত, বর্ণবৈষম্যের অনেক ঊর্ধ্বে আমাদের এই লড়াই, পরিশ্রম। এই ধরনের জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।

টোকিও-র মঞ্চে পদক জিততে না পারলেও তাঁদের লড়াইকে কুর্ণিশ জানিয়েছে সারা দেশ। হামলাবাজদের সেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সৌজন্যের পাঠ নেয়া উচিত বলে জানি যেছেন রানি। তাঁর কথায়, ভারতকে হকিতে শ্রেষ্ঠ করে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে। সেখানে বৈষম্যের কোনও জায়গা নেই।

২৯ বছরের কাটারিয়াই এবারের অলিম্পিকে ভারতের সফল মুখ। একটি হ্যাটট্রিক সহ করেছেন চার গোল। কেন বন্দনাকে জাত-ধর্ম তুলে অপমান করা হবে, প্রশ্ন তুলেছেন রানি। তাঁর বার্তা, এমন ঘটনা যাঁরা ঘটান, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত প্রশাসনের। তবে ইতিমধ্যে তৎপরতা দেখিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। গ্রেফতার করা হয়েছে হামলাবাজদের মধ্যে দুইজনকে।