ভোটার তালিকা সংশোধনে সংক্রামিতদের কাছে যাবে কমিশনের টিম

257

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : কোভিড পরিস্থিতিতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। আবেদনকারী কোভিড আক্রান্তদের কাছে পৌঁছাতে ব্লকে ব্লকে তৈরি থাকছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ টিম। কর্মীদের স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই কিট দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। তবে এবারে কোভিড সংক্রামিত পরিবারগুলির ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলিতে অনলাইন আবেদনের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। কোভিড সংক্রামিত পরিবারের মধ্যে সুস্থ থাকা যেকোনও একজন ব্যক্তি গিয়ে বিনামূল্যে ওই আবেদন করতে পারবেন। এজন্য জেলার ৭৭টি বাংলা সহায়তা কেন্দ্রেই এই পরিষেবা চালু রাখা হচ্ছে।  রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে গত বুধবার। ওইদিন থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। নাম তোলা, বাদ দেওয়া, সংশোধন সবই করা যাবে। চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দাবি এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ আগামী বছর ১৫ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। সব জেলার মতো দক্ষিণ দিনাজপুরেও একইরকমভাবে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এবছর কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, কোভিড সংক্রামিতদের কেউ যদি কোনও ক্ষেত্রে আবেদন করতে চান তবে তাঁর কাছে পৌঁছে যেতে হবে। সেই মোতাবেক জেলায় এবারে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জেলার নির্বাচনি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুব্রত বর্মন বলেন, ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংক্রান্ত দাবি বা অভিযোগগুলি জমা নেওয়া হবে। এই কাজের জন্যে বিশেষ টিম  প্রস্তুত। কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে তা তাঁদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টিও এবারে মাথায় রাখা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গতবারের থেকে এবার ভোটার সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। খসড়া তালিকা অনুযায়ী, জেলায় ১২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫২ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে জেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬৯৯ জন। আর মহিলা ভোটার রয়েছেন ৬ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫৪ জন। বুথের সংখ্যা ১৩০৫। এ বছর নতুন করে বুথের সংখ্যা না বাড়লেও, বেশ কয়েকটি বুথকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বুধবার থেকে জেলার সব বুথেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে ছয়টি বুথের স্থান পরিবর্তনের জন্য মুখ্য নির্বাচনি দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তাতে অনুমোদনও মিলেছে। মূলত ব্লকস্তর থেকেই বুথের স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব জেলায় আসে। এ নিয়ে ব্লকস্তরে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে ব্লক আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত নেন। স্কুল ভবন বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বেহাল হয়ে পড়লে বা অন্য কোনও সমস্যার জেরে বুথের স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। বিকল্প হিসেবে ওই এলাকায় অন্য সরকারি স্কুল বা প্রতিষ্ঠানে বুথটি স্থানান্তরিত করা হয়। এবারে করোনা পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার কারণে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করেছে জেলা প্রশাসন। কোভিড আক্রান্তদের যেমন সহায়তা করা হবে, তেমনি বিএলও এবং এই কাজে নিযুক্ত কর্মীদেরও সুরক্ষার বিষয়গুলি মাথায় রাখা হয়েছে।

- Advertisement -