সানি সরকার, শিলিগুড়ি : বিজেপির পর লক্ষ্য বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করা। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য শিলিগুড়ি পুরনিগম। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ইশ্যুতে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের ওপর নতুন করে আস্থা রাখলেও, জয়ের পরিকল্পনায় যে টিম পিকের ভূমিকা রয়েছে, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন শাসকদলের নেতারা। শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করতে আসরে নেমেছেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের লোকজন। তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তৃণমূলের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। তাঁর ছোট্ট মন্তব্য, আমার কিছু জানা নেই। তবে দলের দার্জিলিং জেলা কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, পিকের টিম আমাদের জানিয়ে কিছু করছে না। তবে পিকের টিম যা পরিকল্পনা করবে এবং আমাদের জানাবে সেইমতো কাজ করা হবে। পাশাপাশি, পুরনিগম দখলের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের এমন পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে আমল দিতে চাইছে না বামেরা। সিপিএমের জেলা কমিটির সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেন, এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ি চাই বলেছিলেন। সেই আর্জি মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এবারও শহরবাসী উন্নয়নের জন্য বামপন্থীদের ওপর আস্থা রাখবেন। কোনো টিমের কোনো কৌশল কাজ দেবে না। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিত্ রায়চৌধুরির বক্তব্য, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা করবে। তা নিয়ে ভাবার কিছু নেই। মানুষের ওপর ভরসা রেখে ৩৫ আসন দখলের লড়াইয়ে নামা হবে।

রাজ্যে তৃণমূল সর্বত্র ক্ষমতা দখল করলেও ২০১১ সাল বাদ দিলে শিলিগুড়ি অধরাই থেকেছে শাসকদলের কাছে। পরিবর্তনের ঢেউয়ে ২০১১ সালে তণমূলের টিকিটে ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বিধানসভায় পা রাখলেও, কেন্দ্রটি ছিনিয়ে নিতে পাঁচ বছরের বেশি সময় লাগেনি সিপিএমের। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল জোট গড়ে পুর নির্বাচনে লড়াই করে সাফল্য পেলেও সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বরং পরস্পরের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে দুই দল দুই মেরুতে চলে গিয়েছে। বাকি সময় থেকে শিলিগুড়ি পুরনিগমে বাম রাজত্বই চলছে। এই পুরনিগম এবার বামেদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে তত্পর হয়ে উঠেছে তৃণমূল এবং এই ক্ষেত্রেও রাজ্যের শাসকদলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠছে টিম পিকে। জানা গিয়েছে, দুদিন আগে শহরে পৌঁছেছেন প্রশান্ত কিশোরের লোকজন। শহরের একটি হোটেলে থেকে দলটি প্রাথমিকভাবে শহরের রাজনৈতিক হাওয়া বোঝার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, কয়েকটি ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে নজর দিয়ে কাজ করা হবে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের হাতে থাকা ওয়ার্ডগুলির মানোন্নয়ন কতটা হয়েছে গত পাঁচ বছরে, কোথায় কোথায় খামতি রয়েছে, দলীয় কাউন্সিলার সম্পর্কে সেখানকার মানুষের মূল্যায়ন কী, ওয়ার্ডের বাসিন্দারা কী চাইছেন, কোন কোন ওযার্ডে দলীয কোন্দল রয়েছে এবং এর কারণ কী, তা দেখা হবে। পাশাপাশি বামেদের দখলে থাকা ওয়ার্ডগুলিতে কী কী কাজ হয়েছে, অনুন্নয়ন বা নাগরিক পরিসেবা নিযে কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না এবং দিনের পর দিন তাঁরা কেন বামেদের ওপর আস্থা রাখছেন তা-ও বুঝে নেওয়া হবে। বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি কতটা হয়েছে, লোকসভা নির্বাচনের প্রভাব রয়েছে কি না, বিজেপির এনআরসি ভাবনাকে কীভাবে দেখছেন শিলিগুড়ির মানুষ, সেগুলিও টিম পিকের তালিকায রয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে এমন কিছু তথ্য নিয়ে ডেটাব্যাংক তৈরি করবে টিম পিকে। কিছু সুপারিশ করে তা তুলে দেওয়া হবে রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে। সুপারিশ কতটা কার্যকর হল, তা সরেজমিনে দেখতে দলটি ফের শহরে আসবে। পর্যায়ক্রমে কয়েকবার এসে মিশন-২০ নীল নকশা তৈরি করবে টিম পিকে।