জলে ডুবে মৃত্যু কিশোরের

286

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: এক আত্মীয়ের শেষ কাজে গিয়ে নদীতে নেমে জলে ডুবে মৃত্যু হল এক কিশোরের। এলাকার বাসিন্দাদের তৎপরতায় কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে এক কিশোর। সম্পর্কে সে মৃতের ভাই। তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল উত্তর থানার কাল্লার কাছে নুনিয়া নদীর ঘাটে। মৃত কিশোরের পরিবার ও আত্মীয়পরিজনরা এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন। আসানসোল উত্তর থানার সাউথ ধাদকার বাসিন্দা মৃত কিশোরের নাম অভিজিৎ চক্রবর্তী (১৮)। আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি থাকা কিশোরের নাম আবীর ভট্টাচার্য। মৃত অভিজিৎ পড়াশোনায় খুবই মেধাবী।

- Advertisement -

এলাকায় সে ভালো ছেলে বলে পরিচিত। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে অভিজিৎ এই বছরই আসানসোলের ধাদকা পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হয়েছিলো৷ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিন দশ আগে অভিজিৎ চক্রবর্তীর জ্যাঠাইমা মারা যান৷ রবিবার তার ক্ষৌরকর্ম ছিলো। সেই কারনে সে বাড়ির লোক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এদিন বেলা সাড়ে এগারোটার সময় বাড়ির অদূরে কাল্লার কাছে নুনিয়া নদী ঘাটে যায়।

কাজ হয়ে যাওয়ার পরে দুপুর একটার সময় অভিজিৎ ও সম্পর্কিত মামাতো ভাই আবীর নুনিয়া নদীতে স্নান করতে নামে। দুজনের কেউই সাঁতার জানেনা। কিছুটা নামার পরেই দু’জনেই জলের টানে তলিয়ে যায়।বাড়ির লোকেদের চিৎকারে আশপাশের লোকেরা দৌড়ে আসেন। তারাই নদীতে নেমে দু’জনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন।

খবর পেয়ে এলাকায় আসেন প্রাক্তন কাউন্সিলর সুব্রত বিশ্বাস। আসে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ।কিছুক্ষুন পরে আবীরকে অচৈতন্য অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক তাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। দুপুর দুটো নাগাদ অভিজিৎকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চলে আসেন অভিজিতের বাবা উমাশঙ্কর চক্রবর্তী ও মা জয়া চক্রবর্তী সহ পরিবারের সদস্য সহ এলাকার বাসিন্দারা। কিশোরের মা ও বাবা একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রাক্তন কাউন্সিলর সুব্রত বিশ্বাস বলেন, খুব খারাপ ঘটনা। বাবা ও মায়ের একমাত্র ছেলে। ভালো ছেলে ছিলো। তবে অনেকেই বলছেন, সাঁতার না জেনে এই বর্ষার সময় নদীতে নামা উচিত হয়নি। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, সাঁতার না জেনে নদীতে নামায় এই ঘটনা ঘটেছে।