সীমান্তের ৭২ নিজতরফ গ্রামে তিস্তার ভাঙন

240

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: মেখলিগঞ্জ ব্লকের নিজতরফ গ্রামপঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ৭২ নিজতরফ গ্রাম। তিস্তার ভাঙনে গ্রাম বাঁচাতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশ ফেলে, নদীর পাড়ে খুঁটি পুঁতে নানাভাবে তিস্তা নদীর ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা জানান, নদী এমনভাবে ভাঙতে শুরু করেছে তাতে নিরুপায় হয়ে অনেকে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে পড়েও পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভাঙন রোধের কাজে হাত লাগান।

স্থানীয় বাসিন্দা অখিল সরকার বলেন, প্রায় সারাবছরই এখানে তিস্তা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকে। এবারের বর্ষাতেও নদী ভেঙে চলেছে। এদিন সকাল থেকে যেভাবে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে তাতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে এলাকা বাঁচাতে নদীর পাড়ে এসে যেভাবে পেড়েছেন নদী ভাঙন আটকানোর কাজে হাত লাগিয়েছেন।’ যদিও ভাঙন ঠেকাতে এটা মোটেই যথেষ্ট নয় বলে এলাকাবাসী জানান। তাঁরা বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন আটকানো না গেলে একদিন গোটা গ্রামটাকেই নদীর জলের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সমস্যার কথা বারবার প্রশাসন সহ নানা মহলে জানানোর পরও কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আন্দোলনের দিকেও এগোচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এই বিষয়ে স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য নিতাই সরকার বলেন, ‘তিস্তার ভাঙন নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক রয়েছে। আমরা চাই এই গ্রাম বাঁচাতে প্রশাসন পদক্ষেপ করুক।’

নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুনীল রায় জানান, আজ সকালে নদীভাঙন নিয়ে ৭২ নিজতরফের মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়রা নিজেরা ময়দানে নামেন ।কিন্তু তিস্তা নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে গোটা এলাকায় পাড় বাঁধ নির্মাণ করা দরকার। এই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা করেছেন বলেও জানিয়েছেন। মেখলিগঞ্জের তিস্তার ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে তারাও অবগত রয়েছে বলে সেচ দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে। তবে এইবিষয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসক রামকুমার তামাং জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়ি ডিভিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন। পরিস্থিতির উপর তাঁদেরও নজর রয়েছে বলেও মহকুমা শাসক জানান।