ঐতিহ্যবাহী মন্দির চত্বরে অশালীনতার অভিযোগ, ক্ষুন্ন হচ্ছে গরিমা

134

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বিন্দোলের ভৈরবী মন্দির প্রাঙ্গণে অশালীনতার অভিযোগ। দিনের আলোয় মন্দির চত্বরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা মিলছে প্রেমিক ও প্রেমিকাদের। এছাড়া দুস্কৃতী দৌরাত্মে মন্দিরের দানপাত্র একাধিকবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মন্দিরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন মন্দির কমিটির কর্তারা।

প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই ভৈরবী মন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিন্দোলে উৎসব উদযাপিত হয়। হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়।সারাবছর জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে ভক্তরা এসে এখানে পুজো দেন।কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকাদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। কাছেই জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট দিয়ে তৈরি অনেক গুলি বসার বেঞ্চ। পাশাপাশি রয়েছে একটি বিশ্রামাগার। মন্দিরের পশ্চিম দিকে জঙ্গলের মধ্যে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য শৌচাগার থাকলেও সেটিও প্রায় অকেজো অবস্থায় তালা বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শৌচাগারের পাশেই দেখা যায় যুবক-যুবতীদের। বিন্দোলের বাসিন্দা অশোক কুমার রায় জানান, মন্দির প্রাঙ্গণ কলুষিত করছে কিছু যুবক যুবতী। ফলে পুজো দিতে এসে প্রায় অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ছেন ভক্তরা। আমাদের ইচ্ছে থাকলেও সেখানে যেতে পারিনা। অবিলম্বে মন্দির প্রাঙ্গণের পবিত্রতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিদ্যুৎ মিত্র বলেন, ‘মন্দিরের শালীনতা নষ্ট করছে বহিরাগত যুবক যুবতীরা। আমরা নিয়ন্ত্রণের অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। আমাদের পক্ষে মন্দির পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।’ ভৈরবী ম ন্দির কমিটির  সম্পাদক শ্যামল সমাদ্দার বলেন, ‘মন্দিরের দানপাত্র মাঝে মধ্যেই চুরি হয়ে যাচ্ছে।প্র তি মাসে দু থেকে তিনবার চুরি হয়। আমরা কমিটির দায়িত্বে থাকলেও স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারিনা।কোনো সিদ্ধান্ত নিলেই স্থানীয়দের একাংশ বাধা দেন।’ এ বিষয়ে বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সুমিত্রা বর্মণের সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মতামত পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -