কাদায় ডুবেছে অস্থায়ী বাজার, ব্যবসায়ীরা বিপাকে

অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা : কাদায় ক্রমশ ভরে উঠেছে মাঠ। সেই মাঠেই বসছে অস্থায়ী বাজার। কাদায় ভরা বাজারে গিয়ে প্রতিনিয়ত নাজেহাল হতে হচ্ছে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের তরফে দাবি তোলা হয়েছে, বাজারটি অবিলম্বে সংস্কার বা আগের জায়গায় স্থানান্তরিত করা হোক।

করোনা আবহে লকডাউন ঘোষণা হতেই ফরাক্কার ব্যারেজ কলোনির নির্দিষ্ট বাজারটিকে আগের জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাজারের তদারকির দায়িত্বে থাকা টাউনশিপ অফিস বাজারটিকে স্থানীয় শিমুলতলা মাঠে স্থানান্তরিত করা হয়। বিস্তীর্ণ এই মাঠের একদিকে মাছের বাজার বসে। চারিদিকে ছড়িয়েছিটিয়ে বসে সবজি বাজার। প্রথমদিকে বাজারে আসা ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ববিধি মেনেই বাজার করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে লকডাউন শিথিল হতেই যে যারমতো করে বাজারে ভিড় জমাতে শুরু করেন। অনেকেই মুখে মাস্ক না লাগিয়ে বহাল তবিয়তে ভিড় জমাচ্ছেন। মাছের বাজারও নিয়ম না মেনে বসছে। বাজারটি নীচু জায়গায় অবস্থিত। ফলে বর্ষার মরশুম পড়তেই মাঠে জল জমতে শুরু করেছে। কাদায় নাজেহাল দশা বাজারে আসা ক্রেতাদের। অনেক ব্যবসায়ীর সবজির দোকানে জল ঢুকে যাচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় দোকানের সামনে কাদা জমছে। ফলে বাজার করতে সমস্যা হচ্ছে। সবজি বিক্রেতা সুফল হালদার বলেন, মাঠটা এতদিন ভালোই ছিল। বর্তমানে বর্ষার মরশুমে কাদা জমে মাঠের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের আসতে সমস্যা হচ্ছে।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহলও। ফরাক্কা ব্লক কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অক্ষয় সরকার বলেন, সামাজিক দূরত্ববিধি বজায় রাখতে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ শিমুলতলায় মাছ এবং সবজির বাজারটিকে স্থানান্তরিত করেছিল। এতে এলাকার লোকেদের ভালোই হয়েছিল। এর জন্য ফরাক্কা ব্যারেজ, থানা এবং ব্লক প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। কিন্তু বর্তমানে বর্ষার মরশুম শুরু হয়ে যাওয়ায় মাঠে জল জমে গিয়েছে। সেইসঙ্গে কাদাও হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের বাজারে আসতে সমস্যা হচ্ছে। মাঠটিতে মাটি ফেলে উঁচু করার প্রয়োজন আছে। ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাজারের ব্যবসায়ীদেরকেও উদ্যোগী হতে হবে বলে তিনি জানান। ফরাক্কা টাউন তৃণমূলের নেতা জয়ন্ত কীর্তনিয়া বলেন, বর্ষায় বাজারের যা অবস্থা, তাতে এমনিতেই সাধারণ মানুষ বাজার করতে আসতে পারবেন না। তাই বর্তমানে যখন দোকানপাট স্বাভাবিকভাবে নিজস্ব জায়গায় বসছে, তখন এখানকার বাজারটিকেও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। বাজারটিকে নিতান্তই যদি এখানেই বসাতে হয়, তবে মাটি বা ভাঙাই ইটের টুকরো ফেলে মাঠটিকে সমান করা দরকার।