জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি পুরসভায় কর্মরত প্রায় ২০০ অস্থায়ী কর্মী গত তিন মাস ধরে মজুরি পাচ্ছেন না। এই কর্মীদের একটি বড়ো অংশই সাফাই বিভাগে কাজ করেন। মজুরি না মেলায় সংসার চালাতে তাঁরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। এই কর্মীদের অভিযোগ, কবে তাঁরা মজুরি পাবেন সে বিষযে কেউই তাঁদের নিশ্চিতভাবে কিছু জানাচ্ছেন না। এই ইশ্যুতে পুরসভার বিরোধী কংগ্রেস ও সিপিএম কাউন্সিলাররা কর্তপক্ষের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। সমস্যা দ্রুতই মিটে যাবে বলে অবশ্য কর্তপক্ষ জানিয়েছে। পুরপ্রধান মোহন বসু বলেন, আগের বাম বোর্ডের সমযে অস্থায়ী কর্মীদের ৮-১০ মাসের মজুরি বকেয়া থাকত। কর্মীরা সময়মতো বেতন পেতেন না। পিএফ, গ্র‌্যাচুইটির টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকত। এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সবার বেতন সময়মতো মিটিয়ে দেওয়া হয়। অস্থায়ী কর্মীদের মজুরি বকেয়া আছে। তবে তা দ্রুতই মিটিয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে পুরপ্রধান জানান।

তিন মাস ধরে মজুরি না পেয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার ২০০-রও বেশি অস্থায়ী কর্মী খুবই সমস্যায় পড়েছেন। সংসার চালাতে তাঁরা হিমসিম খাচ্ছেন। মুদির দোকানগুলিতে ধারদেনা করে এতদিন চালালেও ওই দোকানিরা তাঁদের আর ধারে জিনিসপত্র দিতে চাইছেন না। ফলে তাঁদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। মধ্য চল্লিশের এক অস্থায়ী কর্মী বলেন, শহরের জঞ্জাল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সাফাইকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের প্রতিদিন কাজ করতে হয়। তবে আমরা কেউই কাজে গরহাজির হই না। কিন্তু গত তিন মাস ধরে মজুরি না পেয়ে আমাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। তাঁর প্রশ্ন, কীভাবে আমাদের সংসার চলছে সেই খবর কি কর্তপক্ষ রাখে? আরেক অস্থায়ী কর্মী বলেন, মুদির দোকানে চার হাজার টাকারও বেশি বকেয়া হযে গিয়েছে। দোকানি আর আমাকে ধারে জিনিস দিতে চাইছেন না। কী করব জানি না।

পুরসভায় কংগ্রেস কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন উপপুরপ্রধান পিনাকী সেনগুপ্ত বলেন, শাসকদলের পুরপ্রধান সহ অন্য পদাধিকারীরা বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অস্থাযী কর্মীদের দিকে তাঁদের কোনো নজর নেই। জলপাইগুড়ি পুরসভায় অস্থাযী কর্মীদের দুরকম মজুরি রয়েছে। এক শ্রেণির কর্মী দৈনিক মাত্র ১২০ টাকা আর আরেক শ্রেণির কর্মী দৈনিক ১৫০ টাকা মজুরি পান। এই টাকায় সংসার চালানো যে কতটা কষ্টকর তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। পিনাকীবাবুর বক্তব্য, টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছে। অস্থাযী কর্মীরা এই পরিস্থিতির মধ্যেও যতটা পেরেছেন ভালোভাবে পরিসেবা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের মজুরি না মেলার বিষয়টি কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। সিপিএম কাউন্সিলার প্রদীপ দে বলেন, অস্থায়ী কর্মীরা য়াতে সময়মতো মজুরি পান সেজন্য বহুবার দাবি জানানো হলেও এনিযে কর্তপক্ষের কোনো হেলদোলই নেই। অস্থায়ী কর্মীদের সমস্যা মেটাতে দ্রুতই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বড়োসড়ো আন্দোলন হবে বলে প্রদীপবাবু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।